পূর্ব মেদিনীপুরবাসীর জন্য একাধিক সরকারি সাহায্যের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার হলদিয়া ভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন তিনি। পাশাপাশি হলদিয়ার IPPL-এ অগ্নিকাণ্ডে মৃত ও আহতদের পরিবারের হাতে তুলে দেন আর্থিক সাহায্যও।
প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা-সহ জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্তা, হলদিয়া মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিক এবং হলদিয়ার বিভিন্ন শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরা। বৈঠকে জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি, বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কৃষি, উদ্যানপালন, মৎস্য, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং সেচ দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কমিটির সদস্যরা এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা করে রিপোর্ট জমা দেবেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে।
ভেঙে পড়া মাটির বাড়িগুলির জন্য ২০ হাজার টাকা করে সরকারি সাহায্য দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, সরকার গঠনের ১০১ দিনের মধ্যেই সামাজিক জনগণনা, অন্নপূর্ণা-সহ একাধিক সামাজিক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এবার সরকারের মূল লক্ষ্য শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ এখনও ত্রাণশিবিরে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ত্রাণশিবির থেকে বাড়ি ফেরার সময়ে প্রতিটি পরিবারকে অন্তত পাঁচ দিনের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বিদ্যুৎ পরিষেবা এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। এই নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত পরিষেবা ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ধাপে ধাপে সমস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশ্ন: কোথায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী?
উত্তর: মঙ্গলবার হলদিয়ার হলদিয়া ভবনে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রশ্ন: IPPL অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কী সাহায্য দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: অগ্নিকাণ্ডে মৃত ও আহতদের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা করবে কারা?
উত্তর: কৃষি, উদ্যানপালন, মৎস্য, বিপর্যয় মোকাবিলা ও সেচ দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা করবে।
প্রশ্ন: ভেঙে পড়া মাটির বাড়ির জন্য কত টাকা সাহায্য দেওয়া হবে?
উত্তর: ক্ষতিগ্রস্তদের ২০ হাজার টাকা করে সরকারি সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রশ্ন: ত্রাণশিবির থেকে বাড়ি ফেরার সময় কী দেওয়া হবে?
উত্তর: প্রতিটি পরিবারকে অন্তত পাঁচ দিনের খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে কী জানানো হয়েছে?
উত্তর: বিদ্যুৎ পরিষেবা ধাপে ধাপে স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।