• ‘বন্দে মাতরম’-এর আগেই গাওয়া যাবে রাজ্যসঙ্গীত, বড়সড় সিদ্ধান্ত মাদ্রাজ হাই কোর্টের
    প্রতিদিন | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • কেন্দ্রের নির্দেশিকা উড়িয়ে সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর আগে রাজ্যসঙ্গীত ‘তামিল থাই ভাজথু’ গাইতে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করেছিল থলপতি বিজয় সরকার। এবার মাদ্রাজ হাই কোর্টও ওই প্রস্তাবেই সায় দিল। আদালত স্পষ্ট করেছে, তামিলনাড়ুর সরকারি অনুষ্ঠানে সবার আগে রাজ্যসঙ্গীত ‘তামিল থাই ভাজথু’ গাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। আরও জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকায় রাজ্য সঙ্গীতকে পরবর্তী অবস্থানে সরানোর কথা বলা হয়নি।

    অনন্যা রাধাকৃষ্ণন নামের এক ব্যক্তি হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, তামিলনাড়ুতে সরকারি কাজকর্ম যাতে ‘তামিল থাই ভাজথু’ (তামিল মাতৃবন্দনা সঙ্গীত) দিয়েই শুরু হয় তার নির্দেশিকা দিক আদালত। আবেদনকারী যুক্তি দেন, তামিল সঙ্গীত দিয়ে সরকারি অনুষ্ঠানের সূচনা এবং জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে সমাপ্তি একটি দীর্ঘদিনের রীতি রাজ্যে। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ২৮ জানুয়ারির বিজ্ঞপ্তির উল্লেখ করেন। যেখানে সরকারি অনুষ্ঠান ‘বন্দে মাতরম’ দিয়ে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষের আইনজীবী জানান, গত ৯ জুলাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই সংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশিকা দিয়েছে। সেখানে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ ও জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ পর্যায়ক্রমে গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এক্ষেত্রে জাতীয় সঙ্গীতের আগে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। কেন্দ্র আদালতকে এও জানিয়েছে, ওই বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের সঙ্গীতের বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। ‘তামিল থাই ভাজথু’ যে সবার শেষে গাইতে হবে, এমন কোনও শর্ত আরোপ করা হয়নি।

    মাদ্রাজ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুশ্রুত অরবিন্দ ধর্মাধিকারী এবং বিচারপতি জি আরুল মুরুগানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ উল্লেখ করেছে, স্বাধীনতা দিবসে মাদ্রাজ হাই কোর্টে ঠিক এই ক্রমটিই অনুসরণ করা হয়েছিল— প্রথমে ‘তামিল থাই ভাজথু’, এরপর ‘বন্দে মাতরম’ এবং সবশেষে ‘জনগণমন’।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, সরকারি অনুষ্ঠানে প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’, তারপর জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ বাজাতে হবে। এরপর রাজ্য গানের স্থান হবে। রাজ্যগুলিকে এই নির্দেশিকা “কঠোরভাবে মেনে চলার” কথাও বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশিকা উড়িয়ে তামিলনাড়ুর বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। সেই সময় বিধানসভায় নিজের বক্তব্যে বিজয় জানিয়ে দেন, ভাষা ও সংস্কৃতির বিষয়ে সমঝোতা করবে না রাজ্য। তিনি বলেন, “তামিল শুধু একটি ভাষা নয়, আমাদের জীবনরেখা ও আবেগও।” এবার মাদ্রাস হাই কোর্টের নির্দেশিকাতেও আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদের জয় হল। কার্যত চাপে পড়ল কেন্দ্র।
  • Link to this news (প্রতিদিন)