• আপনার আধারের সিম যাচ্ছে না তো জঙ্গিদের হাতে! ঝাড়গ্রামে বিরাট চক্রের পর্দাফাঁস
    প্রতিদিন | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • হাওড়া থেকে হাবড়া। জঙ্গি থেকে পাক চর। গ্রেপ্তার একের পর এক অভিযুক্ত। অভিযোগ উঠেছে তাঁরা সিম পাচার করছে বাংলাদেশ, নেপাল হয়ে পাকিস্তানে। ভিপিএন বদলে পৌঁছে দিচ্ছে জেহাদের বার্তা। যা রীতিমতো জাতীয় সুরক্ষার কাছে চ্যালেঞ্জ। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন, আপনার আধারের তথ্য দেওয়া সিম যাচ্ছে না তো জঙ্গিদের কাছে? ঝাড়গ্রামে ফাঁস হল বিরাটচক্রের।

    অন্যের নথি ব্যবহার করে সিম কার্ড তুলে তা সাইবার প্রতারকদের কাছে বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন একটি সিম কার্ড সংস্থার দুই ডিস্ট্রিবিউটর। প্রশ্ন উঠছে শুধুই কি সাইবার জালিয়াতি নাকি পিছনে রয়েছে অন্য কোনও চক্র। ধৃতদের মঙ্গলবার ঝাড়গ্রাম আদালতে পেশ করে সাঁকরাইল থানার পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত খোকন দত্ত (৩৩) সাঁকরাইল ব্লকের বহড়াদাঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা। অপর ধৃত মৃণালকান্তি দাস (২৮) কুবদা গ্রামের বাসিন্দা। জানা যাচ্ছে, রাজ্য সাইবার অপরাধ দমন শাখার কাছ থেকে সাঁকরাইল থানায় অন্যের নথি ব্যবহার করে বেআইনিভাবে সিম কার্ড বিক্রির বিষয়ে তথ্য আসে। অভিযোগ, বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তিদের নথি সংগ্রহ করে তাঁদের অজান্তেই সেই নথিতে সিম কার্ড তোলা হত। পরে ওই সিম কার্ডগুলি সাইবার প্রতারণায় যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হত। সেই সিম ব্যবহার করেই প্রতারণার জাল ছড়াত সাইবার অপরাধীরা।

    এই তথ্য পেয়েই তদন্তে নামে সাঁকরাইল থানার পুলিশ। তদন্তে দুই ডিস্ট্রিবিউটারের নাম উঠে আসে। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, ধৃতরা বিভিন্ন ব্যক্তির নথি সংগ্রহ করে তাঁদের অজান্তে সেই নথির ভিত্তিতে সিম কার্ড তুলতেন। পরে সেই সিমগুলি সাইবার প্রতারকদের হাতে তুলে দেওয়া হত। এই ঘটনায় সিম সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত এজেন্টদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কতগুলি সিম এভাবে তোলা হয়েছিল? সেগুলি সাইবার প্রতারণায় কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিচারক ধৃতদের তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)