• সাফল্যে হিংসা! কাকাকে ধারালো অস্ত্রের কোপ, পুড়িয়ে ‘খুন’ করল ভাইপো, গ্রেপ্তার ২
    প্রতিদিন | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জঙ্গল থেকে উদ্ধার আধপোড়া দেহ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের ফিংবাধারডি গ্রামের রামপ্রসাদ অধিকারীকে ‘পরিকল্পিতভাবে খুনের’ অভিযোগে তাঁর খুড়তুতো ভাইপো চিরঞ্জিত অধিকারীকে গ্রেপ্তার করল বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসা বংশী অধিকারীকেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। জয়পুর ও বিষ্ণুপুরের সীমানার গভীর জঙ্গল থেকে মঙ্গলবার ভোরে রামপ্রসাদের আধপোড়া দেহ উদ্ধারকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

    পুলিশ সূত্রে খবর, রামপ্রসাদের বেশ কয়েকটি ভাড়ার গাড়ি এবং তিনটি টোটো রয়েছে। তাঁর একটি গাড়ি চালাতেন চিরঞ্জিত। রবিবার বাঁকুড়ায় কাজ রয়েছে বলে রামপ্রসাদের গাড়ি ভাড়া করেন বংশী। রামপ্রসাদকেও সঙ্গে যাওয়ার জন্য বলা হয়। চিরঞ্জিতকে বলা হয়েছিল, এই সুযোগে সে গাড়ি চালানোও শিখে নিতে পারবে। সেই মতো রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ বংশী, রামপ্রসাদ ও চিরঞ্জিত একই গাড়িতে বাড়ি থেকে বেরোন। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত ১২টা নাগাদ স্ত্রী ডলি অধিকারীর সঙ্গে ফোনে কথা হয় রামপ্রসাদের। তখনও সব স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু রাত দেড়টা নাগাদ ফের ফোন করলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সন্দেহ হওয়ায় ডলি চিরঞ্জিতকে ফোন করেন। তাঁর দাবি, চিরঞ্জিত প্রথমে জানায়, তাঁরা জয়পুরের জঙ্গলে রয়েছেন এবং গাড়ি থেকে নামার পর রামপ্রসাদ কোথাও চলে গিয়েছেন। এরপর বংশী ও চিরঞ্জিতের ফোনও বন্ধ হয়ে যায়।

    সোমবার সকালে চিরঞ্জিত একাই গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফেরেন। তাতেই সন্দেহ হয় পরিবারের। চিরঞ্জিতকে সঙ্গে নিয়েই জয়পুরে গিয়ে রামপ্রসাদের খোঁজ শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে চিরঞ্জিত যে ভাবে রামপ্রসাদকে খোঁজার চেষ্টা করে, তাতেই সন্দেহ বাড়ে। শেষ পর্যন্ত বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ডলি। নিখোঁজের পাশাপাশি বংশী ও চিরঞ্জিতের উপর সন্দেহের কথাও জানান তিনি। অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। জয়পুর ও বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন রাস্তা, হোটেল, লজ, রেস্তরাঁ এবং সম্ভাব্য জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। পুলিশের দাবি, চিরঞ্জিতের বক্তব্যে একাধিক অসংগতি ধরা পড়ে। সন্ধ্যার পর তাকে আটক করে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ।

    পুলিশ সূত্রে দাবি, জেরায় চিরঞ্জিতের বক্তব্য থেকেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। বিষ্ণুপুরের তাঁতিপুকুরের আগে একটি বেসরকারি রিসর্টের দিকে যাওয়ার রাস্তার কাছাকাছি জঙ্গলে গাড়ি নিয়ে ঢোকার কথা স্বীকার করে সে। সেখানেই রামপ্রসাদকে খুন করা হয় বলে পুলিশের দাবি। তদন্তকারীদের অনুমান, খুনের নেপথ্যে টাকা-পয়সা ও হিংসা দুইয়েরই ভূমিকা রয়েছে। কয়েকমাস আগে রামপ্রসাদের কাছ থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিল চিরঞ্জিত। অভিযোগ, টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে দু’জনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। পাশাপাশি রামপ্রসাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিয়েও বংশীর মধ্যে ঈর্ষা তৈরি হয়েছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সেই থেকেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে সে।

    পুলিশ জানিয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনা মতো রামপ্রসাদকে গাড়িতে করে জয়পুরের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়ি থেকে নামার পর চিরঞ্জিত পিছন থেকে তাঁকে চেপে ধরে এবং বংশী ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে। পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে গাড়িতে রাখা প্রায় পাঁচ লিটার পেট্রল দিয়ে দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। মঙ্গলবার গভীর জঙ্গল থেকে আধপোড়া দেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়ায় পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহটি রামপ্রসাদেরই কি না, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)