আল্ট্রাসোনোগ্রাফি থেকে সব ধরণের রক্ত পরীক্ষা। সবই হবে জলের মাঝখানে। সুন্দরবনের একাধিক দ্বীপে জনবসতি থাকলেও তা অত্যন্ত দুর্গম। চারদিকে জল দিয়ে পরিবেষ্টিত। দুর্ভেদ্য সেসব দ্বীপের মানুষদের চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্য দপ্তর নিয়ে এল ফ্লোটিং বা ভাসমান অ্যাম্বুল্যান্স। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই তার পরিদর্শন করে এসেছেন। সূত্রের খবর, আর মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে পুরোদমে কাজে নামছে দু’টি ফ্লোটিং মেডিক্যাল ইউনিট। ফেয়ারলি ঘাটে তারা প্রস্তুত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে আরও ছ’টি ফ্লোটিং মেডিক্যাল ইউনিটের। কী কী ব্যবস্থা থাকবে এতে? প্রতিটি ফ্লোটিং মেডিক্যাল ইউনিটে থাকবেন নার্স, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এছাড়াও থাকবে আল্ট্রাসোনোগ্রাফির ব্যবস্থা। সমস্ত ধরণের রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা। জরুরি ওষুধ, এক্সরে মেশিন। প্লাস্টার করার ব্যবস্থা।
সুন্দরবনের চিকিৎসা পরিষেবাকে একটি নেটওয়ার্কে আনতে চলেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। যার প্রথম ধাপে থাকবে স্পিডবোট অ্যাম্বুল্যান্স। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দপ্তর ৬টি স্পিডবোট অ্যাম্বুল্যান্সের বরাতও দিয়েছে। এই স্পিডবোট অ্যাম্বুল্যান্সগুলি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার গতিতে চলে। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপে কেউ অসুস্থ হলে স্পিডবোড পৌঁছে যাবে সেখানে। ফ্লোটিং মেডিক্যাল ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করবে স্পিডবোড অ্যাম্বুল্যান্স। রোগীকে নিয়ে আসা হবে ফ্লোটিং মেডিক্যাল ইউনিটে। সেখানে চিকিৎসা করার পর যদি আরও অত্যাধুনিক চিকিৎসার দরকার হয় তবে রোগীকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হবে মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সুন্দরবনের গহীন দ্বীপ থেকে রোগীকে স্পিডবোড অ্যাম্বুল্যান্সে করে নিয়ে আসা হবে ফ্লোটিং মেডিক্যাল ইউনিটে। এই ফ্লোটিং মেডিক্যাল ইউনিটে থাকবে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, এক্সরে, রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা। থাকবে নার্সিং স্টাফ। থাকবেন ডাক্তারবাবুও। এই ডাক্তারবাবুদের বদলি হবে না। তারা স্থানীয় চিকিৎসক হবেন। মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটে থাকবে সেমি–অটো অ্যানালাইজার, সেল কাউন্টার, ইসিজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি এবং পোর্টেবল হ্যান্ড-হেল্ড এক্স-রে মেশিন।