• টেন্ডার কারচুপির অভিযোগে ফের গ্রেপ্তার সত্যেন্দ্র জৈন, ১.৫২ কোটি টাকার দুর্নীতির দাবি, ‘একনায়কতন্ত্র’ তোপ কেজরির
    এই সময় | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • আর্থিক তছরূপ মামলায় ১৮ মাস জেলে ছিলেন। ২০২৪-এর ১৮ অক্টোবর জামিন পান। এর মধ্যেই জল বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লির প্রাক্তন জলসম্পদ মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে ফের গ্রেপ্তার করল দুর্নীতি দমন শাখা। টেন্ডারে প্রায় ১.৫২ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। সত্যেন্দ্র গ্রেপ্তারির খবর সামনে আসতেই বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘একনায়কতন্ত্র চলছে।’

    একটি বিবৃতিতে দিল্লির অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ দাবি করেছে, রাজধানীর নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের জন্য ডাকা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক গরমিল ধরা পড়েছে। এই ঘটনায় ভিজিল্যান্স ডিরেক্টরেট অভিযোগ দায়ের করে। তদন্তের পর সত্যেন্দ্র জৈন-সহ মোট ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন সিইও উদিত প্রকাশ রাইও। অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চের দাবি, টেন্ডারের শর্ত এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে নির্দিষ্ট একটি সংস্থা সুবিধা পায়। মধ্যস্থতাকারী কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে টাকার লেনদেনও হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    এই মামলায় সত্যেন্দ্র জৈন এবং উদিত প্রকাশ রাই ছাড়াও দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব, এএন এন্টারপ্রাইজের মালিক নগেন্দ্র যাদব, ইউরোটেক এনভায়রনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের কর্ণধার রাজা কুমার কুরা এবং সৃজনহারের মালিক পঙ্কজ বর্মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সত্যেন্দ্র গ্রেপ্তারির পরেই গোটা ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছে আপ। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টি সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘দেশ জুড়ে একনায়কতন্ত্র চলছে।’ তাঁর দাবি, আগের মামলাটিও ‘ভুয়ো’ ছিল। এই মামলাটিও শেষ পর্যন্ত ভুয়ো প্রমাণিত হবে। পাল্টা আপকে তোপ দেগেছেন দিল্লি বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেব। তাঁর কথায়, ‘কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। আপের আসল চেহারা ধীরে ধীরে সামনে আসছে।’

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২-এর মে মাসে আর্থিক তছরূপ মামলায় সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেপ্তার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রায় ১৮ মাস জেলে থাকার পরে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ে সত্যেন্দ্রর পাশাপাশি আপের আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে ২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।

    প্রশ্ন: কেন সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

    উত্তর: দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপি, অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    প্রশ্ন: টেন্ডার দুর্নীতিতে কত টাকার অভিযোগ রয়েছে?

    উত্তর: অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চের দাবি, এই মামলায় ১.৫২ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

    প্রশ্ন: এই মামলায় মোট কত জন গ্রেপ্তার হয়েছেন?

    উত্তর: সত্যেন্দ্র জৈন-সহ মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    প্রশ্ন: আর কারা গ্রেপ্তার হয়েছেন?

    উত্তর: দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন সিইও উদিত প্রকাশ রাই, প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব, AN Enterprises-এর মালিক নগেন্দ্র যাদব, Euroteck Environment Pvt Ltd-এর কর্ণধার রাজা কুমার কুরা এবং Srijanhar-এর মালিক পঙ্কজ বর্মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    প্রশ্ন: সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেপ্তারি নিয়ে আপ কী বলেছে?

    উত্তর: আপ গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল অভিযোগ করেছেন, দেশে একনায়কতন্ত্র চলছে।

    প্রশ্ন: এর আগে কেন জেলে গিয়েছিলেন সত্যেন্দ্র জৈন?

    উত্তর: ২০২২ সালের মে মাসে অর্থপাচার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রায় ১৮ মাস জেলে থাকার পর ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)