সারদা চিটফান্ডকাণ্ডে বড়সড় স্বস্তি পেলেন সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন। অসমের একটি মামলায় মঙ্গলবার তাঁকে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসির ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, ২০১৬-এর ৩০ ডিসেম্বর থেকে তিনি এই মামলায় হেফাজতে রয়েছেন। দীর্ঘদিন জেলে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করেই তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে জামিনের শর্ত ট্রায়াল কোর্টই ঠিক করবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতিরা।
২০১৩-য় অসমের দিসপুর থানায় সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল টাকা তুলেছে সারদা গোষ্ঠী এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে সেই টাকা বা প্রতিশ্রুত রিটার্ন ফেরত পাননি কেউই। পরে মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে যায়। এই মামলায় প্রতারণা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়। বর্তমানে গুয়াহাটির সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে মামলাটির শুনানি চলছে।
২০২৫-এর ২০ জানুয়ারি গুয়াহাটি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন সুদীপ্ত। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। সেই সময়ে আদালত জানিয়েছিল, মামলার বিচার চলছে। কয়েক জনের সাক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে। যেহেতু মামলার সঙ্গে জনসাধারণের বিপুল অর্থ জড়িত রয়েছে, তাই এই মুহূর্তে জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন সুদীপ্ত।
এ দিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে, এই নির্দিষ্ট মামলায় সুদীপ্ত সেন ২০১৬-এর ৩০ ডিসেম্বর থেকে হেফাজতে রয়েছেন। তবে সারদা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পরে ২০১৩-র এপ্রিলেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি জেলে ছিলেন।
চলতি বছরের এপ্রিলে সুদীপ্তর বিরুদ্ধে থাকা সারদা সংক্রান্ত শেষ দু’টি মামলাতেও শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু অসমে সিবিআইয়ের এই পৃথক মামলাটি থাকায় তিনি মুক্তি পাননি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে সেই বাধাও দূর হল। তাঁকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ট্রায়াল কোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেখানে জামিনের শর্ত ঠিক করার পরে তিনি মুক্তি পেতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রশ্ন: কোন মামলায় সুদীপ্ত সেন জামিন পেয়েছেন?
উত্তর: অসমে সারদা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলায়, যা পরে সিবিআইয়ের হাতে যায়।
প্রশ্ন: সুদীপ্ত সেন কবে থেকে এই মামলায় হেফাজতে ছিলেন?
উত্তর: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে তিনি এই মামলায় হেফাজতে রয়েছেন।
প্রশ্ন: কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: দীর্ঘদিন ধরে হেফাজতে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে জামিন দিয়েছে।
প্রশ্ন: এখনই কি জেল থেকে বেরোতে পারবেন সুদীপ্ত সেন?
উত্তর: জামিন পেলেও ট্রায়াল কোর্টের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই তাঁর মুক্তি সম্ভব।
প্রশ্ন: এই মামলার বিচার কোথায় চলছে?
উত্তর: মামলাটি বর্তমানে গুয়াহাটির সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে বিচারাধীন।
প্রশ্ন: আগে কি তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছিল?
উত্তর: হ্যাঁ। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি গৌহাটি হাই কোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল।
প্রশ্ন: সারদা সংক্রান্ত অন্য মামলাতেও কি জামিন পেয়েছিলেন তিনি?
উত্তর: হ্যাঁ। এপ্রিল ২০২৬-এ কলকাতা হাই কোর্ট সারদা সংক্রান্ত তাঁর বিরুদ্ধে থাকা শেষ দু’টি মামলাতেও শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছিল। অসমের সিবিআই মামলাটি তখন তাঁর মুক্তির পথে বাধা ছিল।