• আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প শুরু হতেই মিলল সুফল, জীবন বাঁচল বৃদ্ধার
    এই সময় | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • রাজ্যে সবে মাত্র চালু হয়েছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। আর ভারত সরকারের এই স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প রাজ্যে চালু হতেই মিলল সুফল। জীবন বাঁচল এক বৃদ্ধার। হাওড়ার উলুবেড়িয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা হয়েছে নদিয়ার নবদ্বীপের বাসিন্দা লীলা দেবনাথ-এর। হাওড়া জেলায় এই কার্ডের মাধ্যমে এই প্রথম কারোর বিনামূল্যে চিকিৎসা হয়েছে। সেই কারণে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ায় খুশি রুগীর পরিবারের লোকজন।

    রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সূচনা

    গত রবিবার রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে ভারত সরকারের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলি প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। এই প্রকল্পের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি মানুষ প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার আওতায় এসেছেন। রাজ্যের সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতাল ছাড়াও অন্যান্য রাজ্যে গিয়েও এর সুফল পাবেন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা। পাশাপাশি, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের তালিকার বাইরে থাকা অবশিষ্ট ৮০ লক্ষ পরিবারের চিকিৎসার জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা চালু করা হয়েছে।

    চিকিৎসা পরিষেবার সুফল

    আর, এই প্রকল্প চালু হতেই সুফল মিলতে শুরু করল। সোমবার উলুবেড়িয়ার বাজারপাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন ৬০ বছর বয়সি লীলা দেবনাথ। দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর পায়ে একটি ক্ষত সৃষ্টি হয়। তা থেকে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। তাঁর ছেলে একটি কারখানায় সামান্য বেতনের কাজ করেন। ফলে ওষুধপত্র ও হাসপাতালের ব্যয়বহুল খরচের ভার তাঁর পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। ওই কার্ড পাওয়ার পরে উলুবেড়িয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

    ওই হাসপাতালের আধিকারিক দীপক দাস জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিনামূল্যে চিকিৎসা হবে লীলার।

    প্রথম চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান

    ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর দাবি, আয়ুষ্মান ভারত কার্ডে এটাই হাওড়া জেলায় প্রথম চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান। এখন ওই রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা তাঁদের লক্ষ্য।

    আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সাহায্যে বিনামূল্যে এই চিকিৎসার সুযোগ মেলায় দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়েছে পরিবারটি। তাঁদের মতে, এই প্রকল্পে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হবে। রাজ্যে এই প্রকল্প চালু করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)