• বৃষ্টিপাতে রেকর্ড গড়ে ঝাড়খণ্ড যাচ্ছে নিম্নচাপ, দুর্যোগের মেঘ এখনই কাটছে না বঙ্গে
    এই সময় | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, কলকাতা ও দুর্গাপুর: কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশকে প্রবল বিক্রমে স্নান করিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলা ছেড়ে ঝাড়খণ্ডের পথ ধরল গভীর নিম্নচাপটি। মঙ্গলবার সকালে আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছে, নিম্নচাপের কেন্দ্র পশ্চিম ও উত্তর–পশ্চিম দিক বরাবর সরে গিয়েছে। তবে নিম্নচাপ বাংলা ছাড়লেও সামনের অন্তত তিন দিন তার জেরে দক্ষিণবঙ্গে দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা জারি থাকছে। আজ, বুধবার দুপুরের মধ্যে সেটি ঝাড়খণ্ড ও বিহারের উপর দিয়ে এগোনোর পরে শক্তি হারিয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। তবে নিম্নচাপটি বাংলা ছাড়ার আগে তার হাত ধরে বঙ্গের আবহাওয়ায় নতুন কিছু রেকর্ড তৈরি হ‍লো।

    জুনে ৩৬৭.৬ মিলিমিটার, জুলাইতে ৩২৬ মিমির পরে এই নিম্নচাপের সৌজন্যে ৪৮ ঘণ্টায় ৭৫ মিমির বেশি বৃষ্টি পেয়েছে কলকাতা। ফলে ১৮ অগস্ট সন্ধে পর্যন্ত চলতি মাসে শহরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়াল ৩৬৩.৭ মিলিমিটারে। পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজির (আইআইটিএম) রেকর্ড বলছে, কলকাতায় ২০০০–এর পর থেকে এ পর্যন্ত বর্ষার চার মাসের মধ্যে প্রথম তিন মাসের প্রতিটিতেই ৩০০ মিমি বা তার বেশি বৃষ্টির নজির ছিল চারবার। ২০০২, ২০০৮, ২০১৩ এবং ২০২০–র পর ফের ২০২৬–এ জুন থেকে অগস্ট পর্যন্ত প্রতি মাসেই ৩০০ মিমির বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।

    তবে রেকর্ড ভাঙচুরের খেলায় এ দিন সবাইকে পিছনে ফেলে দিয়েছে পশ্চিম বর্ধমান। গভীর নিম্নচাপটি সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এই জেলার উপরে অবস্থান করার জন্য বৃষ্টির দাপট সবচেয়ে বেশি ছিল পশ্চিম বর্ধমানেই। বার্নপুরে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় ২২০.৪ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। রেকর্ড বলছে, অগস্টে বার্নপুর ২৪ ঘণ্টায় এত বেশি বৃষ্টি অতীতে পায়নি। আসানসোলের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের দপ্তরে যে রেনগেজ যন্ত্র বসানো রয়েছে, সেখানে একই সময়ে ১৬৭.৬ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। আসানসোল শহরে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১৫৭.৫ মিমি। আইআইটিএম–এর রেকর্ড বলছে, অগস্টে ২৪ ঘণ্টায় আসানসোল শহর এর চেয়ে বেশি বৃষ্টি পেয়েছে ২৭ বছর আগে, ১৯৯৯–তে। সে বছর ২৪ অগস্ট এখানে ২৪ ঘণ্টায় ২১০.২ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল।

    এই প্রবল বৃষ্টির জেরে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বেড়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ৬৪,৩২৫ কিউসেক জল ছাড়া হয়। বিকেল ৪টের সময়ে তা ছিল ৭৭,৭৭৫ কিউসেক, বিকেল ৫টায় ৮০,০৭৫ কিউসেক। সন্ধে ৭টায় সেটা পৌঁছয় ৮২,৪৭৫ কিউসেকে। ডিভিসি-র এগজ়িকিউটিভ ডিরেক্টর সুবীর সাহা বলেন, 'এ দিন মাইথন থেকে জলবিদ্যুৎ তৈরিতে প্রয়োজনীয় তিন হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট জলাধার থেকে জল ছাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় পাঞ্চেত থেকে ২৯ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা নয়। টানা বৃষ্টি হলেও মাইথন ও পাঞ্চেতে জল ধরে রাখার যথেষ্ট ক্ষমতা আছে।'

    মাইথন, পাঞ্চেত থেকে যদি জল বেশি না ছাড়া হয়, তা হলে দুর্গাপুর ব্যারাজে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ছে কেন? এর কারণ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রবল বৃষ্টিকেই দায়ী করা হচ্ছে। গারুই, নুনিয়া, সিঙ্গারন ও তামলার মতো নদীর জল গিয়ে মিশছে দামোদরে। এ ছাড়া প্রচুর ক্যানাল থেকেও জল বেশি আসছে। যার সবটাই যাচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজে। এর আগে তিন দিন, অর্থাৎ শনি–রবি–সোমবার দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে যথাক্রমে ৯,৬৫০, ১৮,১৫০ এবং ৩৫,৫৫০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে।

    নিম্নচাপ দুর্বল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের আকাশ পরিষ্কার হওয়ার আশ্বাস এখনও দিচ্ছেন না আবহবিদরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফিরোজপুর, দেরাদুন, শাহজাহানপুর, বেনারস, দেহরি হয়ে নিম্নচাপের কেন্দ্রের উপর দিয়ে একটি মৌসুমি অক্ষরেখা এগিয়ে দিঘা হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগরের দিকে বিস্তৃত হয়েছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গে জলীয় বাষ্পের জোগান অব্যাহত থাকছে। ফলে আজ বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনই দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গেও।

  • Link to this news (এই সময়)