• স্বামী এবং পুত্রকে খুনের অভিযোগ, প্রেমিক-সহ গ্রেপ্তার মহিলা
    এই সময় | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • স্বামী এবং চার বছরের সন্তানকে খুনের অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। প্রেমিকের সাহায্য নিয়ে তিনি তাঁর স্বামী এবং পুত্রকে খুন করেছেন বলে অভিযোগ। বেঙ্গালুরুর এই ঘটনায় ওই মহিলাকে তাঁর প্রেমিক-সহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    উদ্ধার জোড়া মৃতদেহ

    পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সকালে চিক্কাবানাবারা এলাকা থেকে উদ্ধার হয় অভিনন্দন (৩৫) এবং তাঁর চার বছরের ছেলের দেহ। নিজেদের বাড়িতেই তাঁদের দেহ পাওয়া যায়। এর পরেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

    প্রেমিক-সহ গ্রেপ্তার স্ত্রী

    মঙ্গলবার, মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, এই খুনের ঘটনা হারিনি (Harini) এবং তাঁর পুরুষ সহযোগী বিনয় কুমার কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেঙ্গালুরুর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার পুলিশ (উত্তর-পশ্চিম) ডি কে নাগেশ জানান, ওই সন্দেহজন মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে সময়ে এই জোড়া খুনের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। ডিসিপি জানান, তদন্তের সময়ে জানা যায় যে এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অভিনন্দনের স্ত্রী। জিজ্ঞাসাবাদ করার সময়ে তিনি পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও পরে ভেঙে পড়ে সব কথা স্বীকার করেন। এর পরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ধরা হয়েছে তাঁর বন্ধু বিনয় কুমারকেও। হারিনি ও কুমার দু’জনে মিলে অভিনন্দন ও তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

    কীভাবে খুন?

    পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় দিনই ছোটখাটো নানা বিষয় নিয়ে অভিনন্দন এবং তাঁর স্ত্রীর মধ্যে বচসা হতো। শুক্রবারও তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর পরেই হারিনি তাঁর স্বামীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই জন্য তিনি তাঁর বন্ধুর সাহায্য নেন। এই নিয়ে পরিকল্পনার পরে রবিবার রাতে দু’জনে মিলে এই খুন করেন।

    পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রবিবার রাতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিনন্দন এবং তাঁর স্ত্রী-পুত্র। বাড়িতে ফিরে ছেলে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন অভিনন্দন। এর পরেই ওই মহিলা এবং তাঁর বন্ধু শ্বাসরোধ করে দু’জনকে খুন করেন বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র স্বামীকেই খুন করতে চেয়েছিলেন হারিনি। তবে সেই সময়ে তাঁর পুত্র জেগে ওঠায়,প্রমাণ মেটাতে তাকেও খুন করা হয়।

    খুনের পরে পুলিশকে ফোন

    এর পরেই জরুরী নম্বর ১১২-তে ফোন করেন হারিনি। ঘুম থেকে ওঠার পর তিনি তাঁর স্বামী ও ছেলেকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বলেন জানান। সেখানেই গিয়েই দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। এর পরেই তদন্ত শুরু হয়।

    জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে বিনয়ের সঙ্গে পালিয়ে যান ওই মহিলা। তবে মাস দুয়েক পরে ফিরে আসেন তিনি তাঁকে গ্রহণ করলেও দাম্পত্য কলহ মেটেনি।

    এই নিয়ে আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

  • Link to this news (এই সময়)