এই সময়, বর্ধমান: বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্র ঢলদিঘি এলাকার একটি পেট্রল পাম্পের ছাদের উপরে অবৈধ ভাবে তৈরি করা হয়েছিল করগেটেড টিন দিয়ে একটি ঘর। ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে মঙ্গলবার সকালে বর্ধমান থানায় বিল্ডিং মালিক শ্রীমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে অভিযোগ দায়ের করেন রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার বর্ধমান দক্ষিণ ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার সুমন পাল।
থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযোগে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যুতের খুঁটির গা ঘেষে তৈরি ওই নির্মাণ বিপদজ্জনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল নিজেও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে খোঁজ নিয়েছেন।
এ দিন পুরসভার পক্ষ থেকেও লোক পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট পেট্রল পাম্পে। পুরসভার পক্ষে পরিষ্কার করে জানানো হয়েছে, কোনও ভাবেই আর কোনও নির্মাণের কাজ তারা করতে পারবে না। ছাদের উপরে যে অবৈধ ঘর তৈরি হয়েছে, সেটিও দ্রুত সরাতে হবে। এ দিকে, সংশ্লিষ্ট যে কোম্পানির তেল বিক্রি করে ওই পেট্রল পাম্প, সেই তেল কোম্পানিও জানিয়ে দিয়েছে, পাম্পের কর্তৃপক্ষ কোন অবস্থায় তাদের সংস্থার নাম করেছে, যেখানে তাদের কোনও ভূমিকাই নেই।
সবমিলিয়ে খবর প্রকাশের পরে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। দ্রুত ওই অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ধমান পুরসভার প্রধান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, ‘লোক পাঠিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি অবৈধ ওই নির্মাণ বন্ধ করার জন্য। যা করা হয়েছে, সেটি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। এর পরেও কিছু না–হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
পেট্রল পাম্পের মালিক শ্রীমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘আমরা ওটা অস্থায়ী ভাবে তৈরি করেছিলাম। কারও কোনও অনুমতি নিইনি। কেউ আমাদের সেই বিষয়ে কিছু বলেনি। আজ অনেকেই এসেছিলেন। পুলিশও ফোন করেছিল। ওই অস্থায়ী ঘর খুব শিগগির খুলে নামিয়ে নেব।’