• ‘দাউদাউ আগুন সিঁড়িতে, মরেই যেতাম’, বিভীষিকাময় মুহূর্ত ভুলতে পারছেন না আবাসিকরা
    প্রতিদিন | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • ঘড়ির কাঁটায় রাত পৌনে ২ টো। ঘুমোচ্ছে তিলোত্তমা। নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘুপচি হোটেলে অঘোরে ঘুমোচ্ছিলেন বহু আবাসিক। তাঁদের মধ্যে কেউ চিকিৎসার জন্য শহরে এসেছেন, কেউ আবার অন্য কোনও কাজে। আচমকা ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতে ঘুম ভাঙে সকলের। তারপর আগুনের (Kolkata Hotel Fire) সঙ্গে এক অসম লড়াই! কোনও মতে প্রাণ হাতে নিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে এলেও সেই মুহূর্তের কথা ভেবেই শিউরে উঠছেন  মহম্মদ আমিরুল, ইজাজ আহমেদরা। বলছেন, “আরেকটু হলে মরেই যেতাম।”

    মহম্মদ আমিরুল, ইজাজ আহমেদদের কথায়, “চারতলার ঘরে জানলা খুলে রেখেই ঘুমোচ্ছিলাম। হটাৎ ধোঁয়ায় ঘুম ভাঙে। জানলার কাছে গিয়ে দেখি ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চারপাশ। আগুন লেগেছিল তিনতলায়। চারতলায় ছিল শুধু ধোঁয়া। সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পাশের ঘরের দরজায় ধাক্কা দিই। তারাও বাকিদের জাগানোর চেষ্টা করে। হোটেলের কাউকে ডাকাডাকি করেও পাইনি। লিফট ছিল, কিন্তু তা  বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সিঁড়ি দিয়ে নামার পরিকল্পনা করি। গিয়ে দেখি সিঁড়িতেও দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিল। এক মুহূর্তে মনে হল, আর ঘরে ফেরা হবে না। তারপর দমকল ও পুলিশ কর্মীরা এগিয়ে আসেন। ওনারা আমাদের উদ্ধার করেন।”

    অন্য এক আবাসিকের কথায়, “মৃত্যুকে যেন কাছ থেকে দেখলাম। প্রাণ বাঁচাতে সকলে নিজের মতো চেষ্টা করেছে। অনেকেই ঝাঁপ দেবেন ভেবেছেন। আসলে ওই মুহূর্তে প্রাণ বাঁচানো ছাড়া আর কিছু ভাবার মতো অবস্থায় ছিলাম না। একজন ধোঁয়া দেখে জানলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছে।” তাঁদের সকলের দাবি, ঘটনার তদন্ত হোক, বেআইনিভাবে কলকাতার বুকে চলা এই হোটেলের মালিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করুক সরকার। নাহলে ঋতুরাজ, বিদেশিনী, শিখা ইন-এর মতো ঘটনা ঘটতেই থাকবে। বেঘোরে প্রাণ হারাবে নিরীহরা। উল্লেখ্য, যে বিল্ডিংয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সেখানে একাধিক ছোট ছোট হোটেল রয়েছে। অধিকাংশেরই ঘরের মাপ ৮ ফুট বাই ৮ ফুট। এদিন অগ্নিকাণ্ডের পর ওই ব্লিডিং থেকে মোট ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)