এই সময়: ফ্লাইটের টিকিটের দাম চলে যাচ্ছে সাধারণের নাগালের বাইরে। মেট্রো শহরের মধ্যে টিকিট কখনই সাত–আট হাজারের কমে পাওয়া যাচ্ছে না। শেষ মুহূর্তে কাটলে তো কথাই নেই। এই আবহে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার প্রেক্ষিতে ফ্লাইট টিকিটের দাম বাঁধার কাজে নেমেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সংক্রান্ত একটি খসড়াও জমা পড়েছে শীর্ষ আদালতে। বলা হয়েছে, ওই নিয়ম চূড়ান্ত করতে আরও তিন সপ্তাহ লাগবে।
কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে সুপ্রিম কোর্টের তরফে। বলা হয়েছে, কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া টাকার মধ্যে টিকিট না–দিলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনকে বসিয়ে দিতে হবে। বিমান মন্ত্রক আদালতকে জানিয়েছে, নতুন নিয়ম চালু হওয়ার আগে কিছু নির্দেশিকা এয়ারলাইন্সগুলিকে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু, সেগুলি এখনও তারা মানছে না। সেই প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ। ৭ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে আবার শুনানি হওয়ার কথা।
অন্যদিকে এয়ারলাইন্সের দাবি, যুদ্ধের আবহে জ্বালানির দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এ ছাড়াও 'অপারেশন সিঁদুর'–এর পরে পাকিস্তানের আকাশে আর ঢুকতে পারছে না ভারতীয় কোনও ফ্লাইট। ফলে খরচ বেড়ে গিয়েছে। এখন যদি সরকারের নিয়ম মেনে ভাড়া কমাতে হয়, তা হলে হাঁড়ির হাল হবে। কেন্দ্র আদালতে জানিয়েছে, ভারতীয় এভিয়েশন সেক্টরের উন্নতিতে ২০২৪–এ 'ভারতীয় বায়ুযান অধিনিয়ম' তৈরি হয়েছে। তারই অঙ্গ হিসেবে ভাড়া বাঁধার কাজ শুরু হয়েছে। তারই খসড়া সিল করা খামে জমা পড়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চে। কেন্দ্রের হয়ে আদালতে অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল অনিল কৌশিক জানিয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যে আইন চূড়ান্ত হবে।
গত বছরে সমাজকর্মী এস লক্ষ্মীনারায়ণ সুপ্রিম কোর্টে এই আকাশছোঁয়া ভাড়া নিয়ে মামলা করেন। তাঁর আবেদন ছিল শুধু ভাড়া নয়, প্রতি ক্ষেত্রে সিট পেতে আলাদা টাকা দিতে হচ্ছে। প্রতিটি পরিষেবার জন্য আলাদা করে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এগুলি নিয়ন্ত্রণ করতে তিনি স্বাধীন রেগুলেটার নিয়োগের দাবি করেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই বিমান মন্ত্রকের বক্তব্য জানতে চায় শীর্ষ আদালত।