তদন্তকারীদের মুখোমুখি হচ্ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকছেনও। কিন্তু কোনও প্রশ্নেরই সন্তোষজনক উত্তর দিচ্ছেন না। তদন্তে সহযোগিতাই করছেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই অভিযোগ করেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। একই সঙ্গে তিনি মুখবন্ধ খামে সিআইডি-র তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্টও আদালতে জমা দেন। সওয়ালের সময়ে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল জানান, পুলিশ সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায়।
যদিও বুধবারের শুনানিতে তুষারের এই আর্জিতে সাড়া দেয়নি শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সুমিতকে যে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, তা শুনানির পরবর্তী দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে।
সুমিতের আইনজীবী গোপালশঙ্কর নারায়ণ আদালতে দাবি করেন, সুমিত তদন্তে সহযোগিতা করছেন। রোজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভবানী ভবনে হাজিরা দিচ্ছেন। তদন্তকারীদের মুখোমুখি হচ্ছে। এ-ও জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে জমি-দুর্নীতির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেটি ২০২১ সালের ঘটনা। ২০২৬ সালের জুন মাসে সেই ঘটনায় সুমিতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয় বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই পুরনো অভিযোগের ভিত্তিতে সুমিতের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তে সহযোগিতা নিয়ে গোপাল যা দাবি করেন, তা মানতে চাননি তুষার। তিনি বলেন, ‘সুমিত রায় তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না।’ পাল্টা গোপাল দাবি করেন, ‘নীরব থাকা আমার মক্কেলের সাংবিধানিক অধিকার।’ তার প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, তদন্তে সহযোগিতা না করলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করাও তদন্তকারী সংস্থার সাংবিধানিক অধিকার। যদিও এ দিনই সে রকম কোনও নির্দেশ দিতে চাননি বিচারপতিরা।