পাঁচতলা বাড়িতে একাধিক হোটেল। ছোট ছোট সব ঘর। প্রবেশ এবং প্রস্থানের পথও সরু। নেই জরুরি ভিত্তিতে প্রস্থানের পথ এবং আগুন নেভানোর ব্যবস্থা। দমকলের বিধি মানা না সত্ত্বেও কেন ছাড়পত্র দিল বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ‘সিইএসসি’? ট্রেড লাইসেন্সই বা কে দিল? নিউ মার্কেট থানা এলাকার অন্তর্গত হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে নাম না করে তৃণমূল জমানার পুরমন্ত্রী ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম (ববি)-কেই কার্যত নিশানা করলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
অগ্নিমিত্রার অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে রাজ্য জুড়েই বেআইনি ভাবে হোটেল ব্যবসা গজিয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় তার কোনও রকম অডিট হয়নি। পুরমন্ত্রীর আশ্বাস, সিট গঠন করে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত করতে লালবাজারের গোয়েন্দা প্রধানের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই সিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও দায়ের করা হবে। পুরমন্ত্রী জানান, দমকলও আলাদা অভিযোগ দায়ের করবে।
অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘নতুন সরকারের বয়স মাত্র ১০০ দিন। এই ১০০ দিনের মধ্যে সব চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। আমার জায়গায় আগে যিনি ছিলেন, উনি কী করেছেন? ট্রেড লাইসেন্স দিল কে? সিইএসসি কী করে অনুমতি দিল? একটা এসির পারমিশন নিয়ে ১০টা চালানো হয়েছে।’ প্রাক্তন পুরমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কি কোনও পদক্ষেপ করা হবে? পুরমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাক্তন মেয়র এবং পুরমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে কি না, সেই ব্যাপারে আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট পেশ করব।’
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ বাংলাদেশি রয়েছেন কি না, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি অগ্নিমিত্রা। তবে ঘটনার পরে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ইমারজেন্সি বিভাগে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মহম্মদ খালেদ। তিনি জানান, যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে এক জন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা আর বাকি আট জনই বাংলাদেশি বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে।
(রিপোর্টিং: অর্পিতা হাজরা, শ্যামগোপাল রায় এবং শুভ্রজিৎ চক্রবর্তী)