• ‘এক মাস আগেও তো আমি দেশদ্রোহী ছিলাম!’ NDA-তে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পাল্টা কটাক্ষ দীপকের
    এই সময় | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • এক মাস আগেও যাঁদের আন্দোলনকে ঘিরে ‘দেশবিরোধী’ তকমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দীপকে-কেই এ বার NDA-তে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া-র প্রধান রামদাস আঠওয়ালের এই প্রস্তাবে কটাক্ষের সুরেই পাল্টা জবাব দিলেন ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সমাজমাধ্যমে আঠাওয়ালের প্রস্তাবের খবর শেয়ার করে তাঁর কটাক্ষ, ‘এক মাস আগেও তো আপনাদের কাছে আমি দেশবিরোধী ছিলাম?’

    ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠওয়ালে বলেন, ‘অভিজিৎ দীপকে একজন সক্রিয় ও তরুণ আম্বেদকরবাদী।’ তাঁর মতে, দীপকের রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (A)-তে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত। এতে দল যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনই সমাজেরও উপকার হবে বলে দাবি করেন তিনি। আঠওয়ালে আরও জানান,তাঁদের সরকার অন্যায় করলে শাস্তি দেওয়ার পক্ষে। তাই দীপকের উচিত শাসক জোটের অংশ হওয়া।

    রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (A) বর্তমানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স বা NDA-র শরিক। ফলে আঠাওয়ালের এই মন্তব্যকে অভিজিৎ দীপকেকে কার্যত বিজেপি নেতৃত্বাধীন শিবিরে আসার আমন্ত্রণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই প্রস্তাবের পাল্টা জবাবও দিয়েছেন দীপকেও।

    আঠাওয়ালের মন্তব্য সামনে আসতেই Instagram-এ তা শেয়ার করেন CJP প্রতিষ্ঠাতা। সেখানেই তিনি লেখেন, ‘এক মাস আগেও তো তোমাদের কাছে আমি দেশবিরোধী ছিলাম?’ তাঁর এই মন্তব্যে মূলত সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ঘিরে বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মন্তব্যকেই নিশানা করা হয়েছে।

    গত মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে CJP এবং ছাত্র সংগঠনগুলির আন্দোলন হয়েছিল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ছাত্র আত্মহত্যা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে। সেই আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপও তৈরি হয়। পরে ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং তাঁর জায়গায় প্রহ্লাদ যোশী দায়িত্ব নেন। পদত্যাগের সময়ে প্রধান ‘দেশবিরোধী শক্তি’র প্রসঙ্গ তুলেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, যন্তর মন্তর ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে যাতে এমন শক্তি অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সেই কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

    এই ‘দেশবিরোধী’ তকমা নিয়েই আগে সরব হয়েছিলেন দীপকে। ৭ অগস্ট RSS প্রধান মোহন ভাগবতের মন্তব্যকে সমর্থন করে তিনি বলেছিলেন, ‘Gen Z বা তরুণ প্রতিবাদীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনের জন্য দেশবিরোধী বলা উচিত নয়।’ একই সঙ্গে বিজেপি নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশেও একই বার্তা দেওয়ার আহ্বান দিয়েছিলেন তিনি। বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ‘সন্ত্রাসবাদীদের বি-টিম’ বা ‘ভাইরাস’ বলার অভিযোগও তুলেছিলেন দীপকে।

    এদিকে CJP প্রতিষ্ঠাতা এর আগে একাধিকবার জানিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করা নয়। CJP-কে রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনে নামানোর পরিকল্পনাও নেই বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ রাজনীতি, নির্বাচন এবং এমনকি সংবাদমাধ্যমের উপরও আস্থা হারাচ্ছেন। সেই পরিস্থিতিতে নতুন কোনও রাজনৈতিক দল গড়ার বদলে জনআন্দোলনের প্রয়োজন।’

    আঠেওয়ালের প্রস্তাবের পরেও দীপকে সরাসরি NDA-তে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। বরং তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে রাজনৈতিক শিবির বদলের সম্ভাবনার চেয়ে আন্দোলনের সময়ে তাঁকে ‘দেশবিরোধী’ বলার অভিযোগের দিকেই বেশি জোর দিয়েছেন।

    যন্তর মন্তরের আন্দোলনের পরও CJP-র কার্যক্রম থেমে নেই। বর্তমানে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো এবং শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা সামনে আনতে ‘স্কুল ঠিক করো’ নামে একটি ক্যাম্পেন চালাচ্ছেন দীপকে। সম্প্রতি তাঁর পোস্ট করা একটি ভিডিয়োর ভিত্তিতে মহারাষ্ট্রের একটি জেলা পরিষদ পরিচালিত স্কুলের প্রধান শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খবর। ওই শিক্ষক স্কুলে মদ্যপ অবস্থায় ঘুমিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।

    এ ছাড়াও গ্রামীণ পড়ুয়াদের যাতায়াতের সমস্যার জন্য মহারাষ্ট্র সরকারের সমালোচনা করেছেন দীপকে। শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পড়ানো বাধ্যতামূলক করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর মতে, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদেরও অন্তত এক দিনের জন্য গ্রামের সরকারি স্কুলে গিয়ে পড়ুয়াদের পরিস্থিতি দেখা উচিত। ফলে রামদাস আঠওয়ালের আমন্ত্রণের পরে অভিজিৎ দীপকে শেষ পর্যন্ত NDA-র শরিক দলে যোগ দেন কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

    ১. অভিজিৎ দীপকেকে কে NDA-তে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন?

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (A)-র প্রধান রামদাস আঠওয়ালে অভিজিৎ দীপকেকে তাঁর দলে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

    ২. অভিজিৎ দীপকে কে?

    অভিজিৎ দীপকে ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP-র প্রতিষ্ঠাতা এবং সাম্প্রতিক ছাত্র ও শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ।

    ৩. দীপকেকে ঠিক কী প্রস্তাব দিয়েছেন রামদাস আঠওয়ালে?

    আঠওয়ালে বলেছেন, দীপকে একজন সক্রিয় ও তরুণ আম্বেদকরবাদী। তাঁর মতে, দীপকের RPI(A)-তে যোগ দেওয়া উচিত। এতে দল ও সমাজ দু’য়েরই উপকার হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।

    ৪. RPI(A) কি NDA-র শরিক?

    হ্যাঁ। রামদাস আঠওয়ালের নেতৃত্বাধীন RPI(A) বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-র শরিক দল।

    ৫. আঠওয়ালের প্রস্তাবে অভিজিৎ দীপকে কী বলেছেন?

    সমাজমাধ্যমে আঠওয়ালের মন্তব্য শেয়ার করে দীপকে কটাক্ষ করে লেখেন, ‘এক মাস আগেও তো তোমাদের কাছে আমি দেশবিরোধী ছিলাম?’

    ৬. ‘দেশবিরোধী’ মন্তব্যের সঙ্গে এই প্রস্তাবের সম্পর্ক কী?

    সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময়ে আন্দোলনকারীদের একাংশকে ‘দেশবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনেই আঠওয়ালের NDA-ঘনিষ্ঠ দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবের জবাব দিয়েছেন দীপকে।

    ৭. দীপকের নেতৃত্বে কী ধরনের আন্দোলন হয়েছিল?

    CJP এবং ছাত্র সংগঠনগুলির নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ছাত্র আত্মহত্যা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল।

    ৮. দীপকে কি নির্বাচনী রাজনীতিতে যোগ দিতে চান?

    দীপকে এর আগে একাধিকবার জানিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করা নয়। CJP-কে নির্বাচনে রাজনৈতিক দল হিসেবে নামানোর পরিকল্পনাও নেই বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

    ৯. বর্তমানে কী নিয়ে কাজ করছেন অভিজিৎ দীপকে?

    যন্তর মন্তরের আন্দোলনের পর তিনি সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতে ‘স্কুল ঠিক করো’ নামে একটি ক্যাম্পেন চালাচ্ছেন।

    ১০. দীপকে কি RPI(A) বা NDA-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন?

    না। আঠওয়ালের প্রস্তাবের জবাবে তিনি NDA-তে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। বরং তাঁর প্রতিক্রিয়ায় আগের ‘দেশবিরোধী’ তকমা নিয়েই কটাক্ষ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)