• জনগণনার কাজে যুক্ত থাকলে ‘অন ডিউটি’, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বস্তি দিয়ে নির্দেশিকা জারি রাজ্যের
    এই সময় | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • মিলল বড়সড় স্বস্তি। জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা ‘অন ডিউটি’ হিসেবে বিবেচিত হবেন। বুধবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। এর আগে ৩ অগস্ট বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল, স্কুলের কাজ সেরে জনগণনা করতে হবে। সেই নিয়ে হাইকোর্টে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল রাজ্য সরকার। অবশেষে ৩ অগস্টের সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো।

    ১৬ অগস্ট থেকে শুরু হয়েছে জনগণনার কাজ। স্কুলে পড়ানো সামলে সেই কাজ করতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। এতে ব্যাপক ক্ষুব্ধ তাঁরা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বক্তব্য, জনগণনার মতো সরকারি কাজ নিয়ম অনুযায়ী ‘অন ডিউটি’ হিসেবেই করার কথা। স্কুলের ক্লাস শেষ করে কিংবা ছুটির দিনে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এই কাজ করা কার্যত অসম্ভব।

    এর পরেই স্কুল শিক্ষকদের জনগণনার কাজকে অন ডিউটি হিসেবে গণ্য করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন ৩১ জন প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা। সেই মামলার শুনানিতেই বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তোলেন, ‘তাঁরা কখন স্কুল করবেন, আর কখনই বা জনগণনার কাজে যাবেন?’ শিক্ষকেরা কোথা থেকে কাজে আসছেন, তাঁদের স্কুল কোথায়—এই বিষয়গুলি আগে খতিয়ে দেখা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এর মধ্যেই মামলাকারীদের তরফে তাঁদের যাবতীয় তথ্য আদালতে জমা দেন। তাঁরা কোথায় থাকেন, কোন স্কুলে কর্মরত, স্কুলের কী সময়সূচি— সবই। সেই সব তথ্য খতিয়ে দেখে তাঁদের সেন্সাসের কাজে কী ভাবে ব্যবহার করা হবে, সেই বিষয়ে আদালতকে জানায় রাজ্য।

    এর পরেই ‘অন ডিউটি’ অর্ডার ইস্যু করে জনগণনা কর্তৃপক্ষ। তার পরে এ দিন বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্কুল শিক্ষা দপ্তর বলে দিল, ‘সেন্সাস কর্তৃপক্ষ যা বলবেন, সেই মতোই কাজ হবে।’ পাশাপাশি জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অন ডিউটি হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এই কাজের জন্য স্কুলের পঠন-পাঠনে যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে তা-ও খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

    প্রশ্ন: Census-এর কাজে যুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা কি ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য হবেন?

    উত্তর: হ্যাঁ। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, Census কর্তৃপক্ষের ‘অন ডিউটি’ অর্ডারের পর স্কুল শিক্ষা দফতরও জানিয়েছে, Census-এর কাজে যুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সেই দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

    প্রশ্ন: ৩ অগস্টের নির্দেশে কী বলা হয়েছিল?

    উত্তর: ওই নির্দেশে বলা হয়েছিল, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্কুলের স্বাভাবিক কাজ সামলে Census-এর দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    প্রশ্ন: ৩ অগস্টের নির্দেশ কি এখনও কার্যকর?

    উত্তর: না। ১৯ অগস্টের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ৩ অগস্টের Memo No. 708(46)-Sc/P প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    প্রশ্ন: নতুন বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে?

    উত্তর: Census কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। পাশাপাশি, Census-এর কাজে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যুক্ত করার ফলে স্কুলের পঠনপাঠন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রশ্ন: শিক্ষকরা কেন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন?

    উত্তর: তাঁদের বক্তব্য ছিল, স্কুলের ক্লাস নেওয়ার পর বা ছুটির দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে Census-এর কাজ করা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। তাই Census-এর কাজকে ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়ে ৩১ জন প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা হাইকোর্টে মামলা করেন।

    প্রশ্ন: হাইকোর্ট কী প্রশ্ন তুলেছিল?

    উত্তর: শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তোলেন—শিক্ষকরা কখন স্কুলের কাজ করবেন এবং কখন Census-এর দায়িত্ব পালন করবেন? শিক্ষকরা কোথা থেকে আসছেন এবং তাঁদের স্কুল কোথায়, সেই বিষয়গুলিও আগে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

    প্রশ্ন: তাহলে কি শিক্ষকরা স্কুলের কাজ থেকে পুরোপুরি ছাড় পাবেন?

    উত্তর: এমনটা বলা যাচ্ছে না। নতুন নির্দেশের মূল কথা হল, Census-এর দায়িত্ব অন ডিউটি হিসেবে পালন করা হবে এবং একই সঙ্গে স্কুলের পঠনপাঠন যাতে ব্যাহত না হয়, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

    প্রশ্ন: এই সিদ্ধান্তে শিক্ষকদের কী সুবিধা হল?

    উত্তর: Census-এর মতো সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় তাঁদের কাজের মর্যাদা ও ডিউটি-স্ট্যাটাস নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা অনেকটাই দূর হল। সবচেয়ে বড় বিষয়, স্কুলের কাজ শেষ করে অতিরিক্ত সময়ে Census-এর কাজ করার আগের নির্দেশটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)