বিগত সরকারের উদাসীনতা ও অবহেলার কারণেই মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুন লাগে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যার জেরে নয়টি মানুষের প্রাণ গেল (শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত)। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা অসম্ভব। এই মর্মান্তিক ঘটনা পূর্ববর্তী সরকারের অবহেলার এক করুণ নিদর্শন। বছরের পর বছর ধরে শহর ও রাজ্যের পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না; বাধ্যতামূলক অগ্নিনির্বাপক সুরক্ষা বিধি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই হোটেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার এবং চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।’
আগুন লাগার ঘটনায় হোটেলের অনেক আবাসিক অভিযোগ জানিয়েছেন, হোটেলে কোনও অগ্নিবির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ধোঁয়ায় চারিদিক ঢেকে যাওয়ার পরে কোন পথ দিয়ে বের হতে হবে, তা তাঁরা বুঝতেই পারেননি। ওই হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থায় সিইএসসির অনুমতি কী করে দিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘পূর্ববর্তী প্রশাসন ইচ্ছাকৃত ভাবেই এই সব বিষয় এড়িয়ে গিয়েছিল। তারা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সংক্রান্ত পরিদর্শন বা ফায়ার অডিট কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিকে বাড়তে দিয়েছিল। সেই সময়ের সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং যে সুরক্ষা মানদণ্ডগুলো আগে থেকেই থাকা উচিত ছিল, তা কার্যকর করতে আমরা এখন নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দমকলের ডিজি অনুজ শর্মাকে থেকে রিপোর্ট চাইলেন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল। কোন অফিসার বিল্ডিংয়ের এনওসি দিয়েছিলেন? এই বিল্ডিংয়ে অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে এবং তার ইন্সপেকশনে কারা গিয়েছিলেন? ইন্সপেকশন বা পরিদর্শন করার পরে কী কী রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে? রিপোর্টের কপি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।