Super El Nino তাণ্ডবে এ বছর জাঁকিয়ে শীত নয়, হাড় কাঁপানো ঠান্ডা পড়বে মাত্র কয়েকদিন
আজ তক | ১৯ আগস্ট ২০২৬
সুপার এল নিনো জাঁকিয়ে বসেছে দেশে। আর তার জন্য এবার শীতকালের উপরও বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে। চলতি বছর ঠান্ডা পড়বে কবে? ঠিক কতদিন থাকবে শীতকাল? এই নিয়ে আশঙ্কার কথা শোনালেন আবহাওয়াবিদ ড. সুজীব কর।
সামগ্রিক ভাবে সুপার এল নিনোর গুরুতর প্রভাব সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে bangla.aajtak.in-কে ড. সুজীব কর বলেন, 'সুপার এল নিনোর প্রভাব থাকতে পারে ৭-৯ বছর পর্যন্ত। উষ্ণ মহাসাগরীয় স্রোত প্রশান্ত মহাসাগর থেকে বঙ্গোপসাগর, আরবসাগর, ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে। জলের তাপমাত্রা তুলনামূলক ভাবে বেড়ে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ বাষ্পীভবন ঘটে জলের। যার জন্য অস্বাভাবিক ভাবে নিম্নচাপ তৈরি হতে থাকে জলভাগের উপর। জলেরভাগের থেকে বায়ু ভূমিভাগে প্রবেশ করতে বাধা পায়।'
শীত বিলম্ব হবে এ বছর, নেপথ্যে কী কারণ?
আবহাওয়াবিদের কথায়, 'স্বাভাবিক অবস্থাতে যদি ভূমিভাগের উপর যথেষ্ট পরিমাণে জলীয় বাশ্প প্রবেশ না করে, বৃষ্টি কম হয়। এর ফলে ভূমিভাগ যতটা হিট রিসিভ করে, তা রেডিয়েট করতে পারে না।' অর্থাৎ তাপ বিকিরণ হয় না। ভূমিভাগের মধ্যেই সেই তাপ জমে থেকে যায়। ড. সুজীব করের বক্তব্য, 'এই তাপ রিলিজ না হলে স্বাভাবিক ভাবেই শীত বিলম্ব হতে থাকে। শীতের সময়েও ঠান্ডা পড়ার সম্ভাবনা কার্যত থাকেই না।'
শীত ক্ষণিকের জন্য স্থায়ী হবে
জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে অ্যাক্টিভ হয়েছে সুপার এল নিনো। সেপ্টেম্বর মাসে তা চূড়ান্ত আকার ধারণ করবে বলেই জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। ড. সুজীব করের কথায়, 'শীত বিলম্বিত হতে থাকবে সেপ্টেম্বরে এল নিনো সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গায় পৌঁছলে। স্বাভাবিক ভাবে যে পরিমাণ শীতল বায়ু প্রবাহ ঘটার কথা উত্তর ভারতে, সেই বায়ুপ্রবাহ আসতে পারবে না। ভূমিভাগের উপর তাপমাত্রা থেকে গেলে জেট বায়ু সক্রিয় হতে পারবে না। বঙ্গোপসাগরে যেহেতু নিম্নচাপ রয়েছে ফলে উত্তর পূর্ব দিক থেকে কোনও হাওয়া এদিকে আসতে পারবে না।'
কবে পড়বে শীত? কতদিন চলবে?
ড. সুজীব কর জানিয়েছেন, নভেম্বরের শেষে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের আকর্ষণে উত্তর পূর্ব ভারত থেকে শক্তিশালী শীতল বায়ু প্রবেশ করবে। তিনি বলেন, 'ঠান্ডা পাব ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে। ভালই ঠান্ডা পাব কিন্তু সেই ঠান্ডা বেশিদিন স্থায়ী হবে না। অল্প কিছুদিন ঠান্ডা পড়ার পর তা উধাও হবে।'
সুপার এল নিনো এর আগে আমাদের দেশে ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে। ছিল ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। সে বছর ভয়ঙ্কর সাইক্লোন এবং বন্যা হয়েছিল ওড়িশায় ৩১ অক্টোবর। ওই ধরনের কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবারও সুপার এল নিনোর প্রভাবে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এই আবহাওয়াবিদ। এত দীর্ঘ সুপার এল নিনোর প্রভাব এর আগে ভারত কখনও পায়নি বলেও জানাচ্ছেন তিনি। এই পরিস্থিতি থাকলে শীত ক্ষণস্থায়ী হবে। ১৫-২০ দিন ভাল ঠান্ডা পেলেও অত্যন্ত দ্রুত গ্রীষ্মকাল নেমে আসবে বলেও আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।