• বিশ্বভারতীর নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নয়াদিল্লিতে তলব
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। আর তার জেরে বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিল জাতীয় তপসিলি জাতি কমিশন। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টোয় নয়াদিল্লিতে গিয়ে জাতীয় তপসিলি জাতি কমিশনের দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষকে। তপসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে উপাচার্যকে শুনানিতে ডাকল জাতীয় তপসিলি জাতি কমিশন। ইতিমধ্যেই বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে এই সংক্রান্ত নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। যা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়োগ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে আবেদনকারী উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা লিটন বিশ্বাস জাতীয় তপসিলি জাতি কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানিতে এবার উপস্থিত থাকতে হবে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে। ইতিমধ্যেই বিশ্বভারতীর উপাচার্য নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এই শুনানি নেবেন তপসিলি কমিশনের সদস্য ড. পার্থ বিশ্বাস। ওই নোটিসে বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছিল। একইসঙ্গে নিয়োগ বিষয়ক প্রয়োজনীয় নথি এবং অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টও আনতে বলা হয়েছে। এমনকী অভিযোগকারী লিটন বিশ্বাসকেও ওই দিন কমিশনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

    বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার, সম্পত্তি আধিকারিক, গ্রন্থাগারিক-সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল। তার মধ্যে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদটি ছিল তপশিলি জাতি হিসাবে সংরক্ষিত। কিন্তু সেখানে দেখা যায় গত ৮ জুলাই ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে সুখেন্দু মজুমদারকে নিয়োগ করা হয়েছে। তখনই অভিযোগ ওঠে এই নিয়োগের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অনিয়ম করা হয়েছে। আর সেক্ষেত্রে মানা হয়নি সংরক্ষণের সরকারি নিয়মকানুন। বিশেষ প্রার্থীকে সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ ওঠে।

    তাছাড়া মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা লিটন বিশ্বাস একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক। তিনিই বিশ্বভারতীর ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে আবেদন করেছিলেন। লিটনবাবুর অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ছিল। সংরক্ষণের কোনও নিয়ম মেনে নিয়োগ করা হয়নি। লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেনি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এই অভিযোগ তুলে জাতীয় তপসিলি জাতি কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন লিটন বিশ্বাস। এই বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, ‘মহামান্য কমিশনের যা নির্দেশ সেটা মানা হবে অবশ্যই।’ আর লিটন বিশ্বাস বলেন, ‘ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংরক্ষণের যে নিয়ম তা মানেনি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। নিয়োগের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। অনিয়মের জন্যই আমি অভিযোগ করেছি। আশাকরি সঠিক বিচার হবে।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)