১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল হাই কোর্ট, তেহেলকা কর্তার যাবজ্জীবন চেয়ে ‘সুপ্রিম’ দ্বারস্থ গোয়া সরকার
প্রতিদিন | ১৯ আগস্ট ২০২৬
ধর্ষণ মামলায় তেহেলকার প্রতিষ্ঠাতা তরুণ তেজপালকে (Tarun Tejpal) ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল বম্বে হাই কোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ গোয়া সরকার। আবেদন জানানো হয়েছে, ১০ বছরের কারাদণ্ড পর্যপ্ত নয়, এই যৌন অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হোক।
২০১৩ সালে গোয়ায় একটি কনফারেন্স চলাকালীন এক মহিলা সহকর্মীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠে তরুণের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা অভিযোগ করেন, গোয়ার এক হোটেলের লিফটে তাঁকে যৌন নিগ্রহ করেছেন ‘তেহেলকা’র প্রতিষ্ঠাতা। এই মর্মে গোয়া পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা হয়। এরপর ২০১৩ সালে গ্রেপ্তার করা হয় তরুণকে। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর ২০১৭ সালে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় তেজপালের বিরুদ্ধে। মামলার শুনানি শুরু হয় গোয়ার আদালতে। ২০২১ সালে সেই মামলায় রেহাই পান তিনি। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় গোয়া সরকার। গত ৬ আগস্ট ধর্ষণ মামলায় তরুণকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় বম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চ।
বম্বে হাই কোর্টে গোয়া সরকারের হয়ে লড়া সরকারি আইনজীবী তুষার মেহতা বলেছিলেন, “নির্যাতিতা সাংবাদিক তরুণের মেয়ের বয়সি। তা সত্ত্বেও তরুণ এহেন ঘৃণ্য কাজ করেছেন। তাই এক্ষেত্রে একটি নজির স্থাপনের প্রয়োজন।” সেই নজির স্থাপনের লক্ষ্যেই এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল গোয়া সরকার। উল্লেখ্য, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৭৬(২)(এফ) ও ৩৭৬(২)(কে) এবং ৩৫৪এ ও ৩৫৪বি ধারার তরুণকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল ‘তেহেলকা’র প্রতিষ্ঠাতাকে। অর্থাৎ ধর্ষণ এবং মহিলার উপর হামলা বা অপরাধমূলক শক্তি প্রয়োগ সংক্রান্ত ধারাতেও অভিযোগ আনা হয়।
তবে বম্বে হাই কোর্টের নির্দেশে একাধিক ধারায় সাজা হলেও তরুণের বিরুদ্ধে সব ক’টি সাজা একই সঙ্গে চলবে। অর্থাৎ, সাজাগুলি পরপর কার্যকর হবে না। মোট সাজার মেয়াদ ছিল ১০ বছর। কিন্তু গোয়া সরকারের দাবি, তরুণ তেজপালের ক্ষেত্রে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড যথেষ্ট নয়। তাঁর সাজা আরও বাড়ানো দাবিতেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হল রাজ্য সরকার।