• বামপন্থী ও ‘আরশোলা’দের মিছিলে পড়ুয়াদের ‘না’! বিতর্কে পড়ে পিছু হটল বিজয় সরকার
    প্রতিদিন | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • বামপন্থী ও তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে পড়ুয়ারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এমনই নির্দেশ দিয়েছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থলপতি। কিন্তু এরপরই শুরু হয়েছিল তীব্র বিতর্ক। যার জেরে অবশেষে পিছু হটতে বাধ্য হল বিজয় সরকার। গত ১৪ আগস্ট স্কুল ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছে পাঠানো ওই নির্দেশটি বুধবার তুলে নেওয়া হল।

    ককরোচ জনতা পার্টির জাতীয় সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস বিজয় সরকারের পদক্ষেপটিকে ‘অসাংবিধানিক’, ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ বলে তোপ দেগেছিলেন। যদিও বিজেপি বিজয়ের নির্দেশকে সমর্থন জানিয়েছিল। গেরুয়া নেতা ভিনোজ পি সেলভম সিজেপি ও বামপন্থী সংগঠনগুলিকে ‘বিশৃঙ্খলার কারিগর’ বলে তোপ দাগেন। সব মিলিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামতকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে।

    লক্ষণীয় বিষয় হল, তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা নিশ্চিত করতে বিজয়কে বাইরে থেকে নিঃশর্ত সমর্থন জুগিয়েছিল বামেরা। কেননা টিভিকে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল। ফ্লোর টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য তাদের কংগ্রেস ও ভিসিকে-র মতো কম আসন পাওয়া দলগুলির সমর্থনের উপর নির্ভর করতে হয়েছিল। কিন্তু বামপন্থীদের সমর্থনপ্রাপ্ত বিজয় ক্ষমতায় আসার পরই বামপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করায় নানা সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

    নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে তোলপাড় হয়েছিল দেশ। সর্বভারতীয় পরীক্ষায় কেলেঙ্কারি নিয়ে জেন জি’র আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডেও শিক্ষা দুর্নীতির প্রতিবাদ আন্দোলনে মিলেছে বড় সাফল্য। সেই ধারা বজায় রেখেই তামিলনাড়ুতে দানা বেধেছে আন্দোলন। আর তা দমন করতেই পড়ুয়াদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিয়ে পদক্ষেপ করেও এবার পিছু হটল বিজয় সরকার।

    সম্প্রতি আরও একটি বিষয়ে বিতর্কে পড়েছেন বিজয়। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে বিজয় যেভাবে দর্শকাসনের সামনের সারিতে বসে থাকা তৃষাকে ‘স্যালুট’ করেছেন তা তাঁর ভোটাররাও মেনে নিতে পারেননি বলে তোপ দেগেছে ডিএমকে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)