গেমিং অ্যাপেই জঙ্গি বাছে আলকায়দা, মগজধোলাইয়ে শোনানো হয় ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের প্যারোডি!
প্রতিদিন | ১৯ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমেই জঙ্গি নিয়োগের ‘খেলা’ ভারতীয় উপমহাদেশের আল কায়েদার। দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের ৬টি জেলায় এই জঙ্গি সংগঠন নেটওয়ার্ক তৈরি করছে বলে খবর গোয়েন্দাদের কাছে। সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজার ও নোদাখালি থেকে তেলেঙ্গানা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ তল্লাশিতে গ্রেপ্তার হয় দুই জঙ্গি সদস্য। তাদের জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে। গোয়েন্দাদের কাছে খবর, এই জঙ্গিদেরও হ্যান্ডলার রয়েছে পাকিস্তানে। তারা কীভাবে নেটওয়ার্ক বাড়াবে, তা পাকিস্তান থেকে নির্দেশ আসত বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। ওই দু’জনের মোবাইল ঘেঁটে গোয়েন্দারা সেই হ্যান্ডলারের নাম জানার চেষ্টা হচ্ছে।
মাস কয়েক আগে বাংলার বাঁকুড়া-সহ দেশের সাতটি রাজ্যে তল্লাশি চালিয়ে বারো জনকে গ্রেপ্তার করার পর ভারতীয় উপমহাদেশের আল কায়েদা বা ‘আকিস’-এর পাকিস্তানি হ্যান্ডলার আল হাকিম শুকুরের নাম গোয়েন্দারা জানতে পেরেছিলেন। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় থেকে জিন্নাতুল কিবরিয়া ওরফে টুটুল বেগ ও নোদাখালি থেকে মহম্মদ সফিক শেখকে গ্রেপ্তার করার পর শুকুর পাকিস্তান থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল কি না, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, বীরভূমের মতো আরও পাঁচটি জেলায় ‘আকিস’ নেটওয়ার্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে। এর আগে ‘আকিস’-এর সদস্য অভিযোগে বাঁকুড়ার খাতরা থেকে মির আসিফ আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবার বাঁকুড়া-সহ অন্য জেলাগুলিতে ‘আকিস’-এর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে চলছে তদন্ত।
গোয়েন্দারা জেনেছেন, গেমিং অ্যাপের মাধ্যমেই ‘আকিস’-এর সদস্যদের বাছাই করা হয়। একাধিক গেমিং অ্যাপে যোগ দেয় জঙ্গিদের লিঙ্কম্যানরা। গেম খেলার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নজরে থাকে অ্যাপের সদস্যরা। তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজন তরুণ ও যুবকের সঙ্গে প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামে যোগাযোগ করা হয়। অ্যাপে কল করে কথা বলেও তাদের মগজধোলাই করা যায় কি না, তা বোঝার চেষ্টা হয়। এর পর সোশাল মিডিয়ায় বিশেষ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে তাদের যোগ করিয়ে মগজধোলাই শুরু হয়। দেখা গিয়েছে, মগজধোলাইয়ের অঙ্গ হিসাবে জাতীয় সঙ্গীত বা জাতীয় গানের নকল করে প্যারোডি বানিয়ে শোনানো হয় সেই অ্যাকাউন্টের সদস্যদের। আবার আল কায়েদা ও আইএস-এর সপক্ষে বেশ কিছু যুদ্ধের ভিডিও, এমনকী, লাদেনের ভাষণও শোনানো হয়। আবার ভারতের জাতীয় পতাকা ‘মর্ফ’ করে আইএস-এর পতাকায় পরিণত করে দেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়। পাকিস্তানে ভারতের জাতীয় পতাকা পোড়ানো ও অবমাননা করিয়ে তারও ভিডিও তারা আপলোড করে সোশাল মিডিয়ায়।
গোয়েন্দাদের মতে, পাক চর সংস্থা আইএসআই-এর বিশেষ শাখা এই কাজে নিযুক্ত। তারাই বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে এই ভিডিওগুলি সরবরাহ করে। সেগুলি আবার ‘আকিস’-এর মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি সোশাল মিডিয়ায় আপলোড করে। কয়েক মাস আগে অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়া থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল মহম্মদ রহমতুল্লাহ শরিফ, মির্জা সোহেল বেগ ও মহম্মদ দানিশ নামে তিন যুবক। তারা ‘আকিস’-এর হয়ে জঙ্গি নিয়োগের জন্য ‘আল মালিক ইসলামিক ইয়ুথ’ নামে একটি গ্রুপ তৈরি করে। এবারও পাক জঙ্গিদের হাতে তৈরি ফেসবুকে ‘মুঘলে আজম’ এবং জিহাদ-ই-সবিলিল্লাহ’ নামে দুটি অ্যাকাউন্ট গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। জঙ্গি নিয়োদের জন্য তৈরি একরম আরও সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপের সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।