তামিলনাড়ুতে পড়ুয়াদের রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশগ্রহণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশ ঘিরে শুরু হল বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (TVK) সরকার রাজ্যের স্কুল-কলেজের পড়ুয়া ও যুবকদের বামপন্থী দল এবং কক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আয়োজিত বিক্ষোভ ও আন্দোলনে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে সমন্বিত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে তীব্র সমালোচনার মুখে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, দেশজোড়া জেন জ়ি আন্দোলনে সিঁদুরে মেঘ দেখে আগাম ছাত্র আন্দোলনকে দমনের জন্য এই স্ট্র্যাটেজ়ি নিয়েছিল বিজয়ের সরকার।
TVK সরকারের নোটিস
জানা গিয়েছে, ১৪ অগস্ট রাজ্য সরকারের তরফে একটি নির্দেশ জারি করা হয়। তার ভিত্তিতে ১৭ অগস্ট কলেজিয়েট এডুকেশন দপ্তর সরকারি আর্টস ও সায়েন্স কলেজগুলির অধ্যক্ষদের নির্দেশ দেয়, বামপন্থী দল এবং CJP-র আয়োজিত কর্মসূচিতে পড়ুয়া ও যুবকদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে স্কুল শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দেশটিকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্টও দ্রুত জমা দিতে বলা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল, পড়ুয়া এবং তরুণরা যাতে CJP ও বামপন্থী দলগুলির ডাকা বিক্ষোভ ও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ‘তাগিদে’ সাড়া না দেন, তা নিশ্চিত করা।
উঠল বিতর্কের ঝড়
সরকারি নির্দেশ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়। CJP-র জাতীয় সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস এই পদক্ষেপকে ‘অসাংবিধানিক’, ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘অবাস্তব’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক দেশে পড়ুয়াদের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ঠেকানোর নির্দেশ গ্রহণযোগ্য নয়। বাম দলগুলিও সরকারের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে।
অন্যদিকে, বিজেপির তরফে এই নির্দেশকে সমর্থন করা হয়। বিজেপি নেতা বিনোজ পি সেলভাম CJP এবং বামপন্থী সংগঠনগুলিকে ‘বিশৃঙ্খলার এজেন্ট’ বলে আক্রমণ করেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে শোরগোল শুরু হয়ে যায়।
এই নির্দেশের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক পড়ুয়া আন্দোলনের আবহ। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বিশেষ করে NEET-সহ বিভিন্ন নিয়োগ ও শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগে গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জেন জ়ি অর্থাৎ ছাত্র-যুবদের আন্দোলন জোরদার হয়েছে। CJP-ও এই ধরনের ইস্যুতে আন্দোলন সংগঠিত করেছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক পড়ুয়া আন্দোলনেও সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
তবে বিতর্কের মধ্যেই বুধবার নির্দেশটি প্রত্যাহার করে তামিলনাড়ু সরকার। কলেজিয়েট এডুকেশন দপ্তরের নতুন যোগাযোগে আগের নির্দেশ বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। ফলে পড়ুয়াদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ঠেকানোর সেই সরকারি নির্দেশ আর কার্যকর থাকছে না।
এই ঘটনাকে ঘিরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। বিশেষত TVK সরকার একদিকে বাম দলগুলির সমর্থনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে, অন্যদিকে সেই বাম দলগুলিরই কর্মসূচিতে পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ ঠেকানোর নির্দেশ দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সমালোচনার মুখে দ্রুত ইউ-টার্ন নেওয়ায় সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্নও উঠেছে।