• Kolkata Fire: কলকাতায় আসার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের সাংবাদিকের শেষ পোস্ট ছিল... এখন সবই স্মৃতি
    এই সময় | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • কথায় বলে, যে যেখানেই থাক, যে অবস্থাতেই থাক, মৃত্যু টেনে আনে নিজের দিকে। সপরিবার বাংলাদেশের সাংবাদিক দেবাশিস দত্তের মৃত্যু যেন সেই কথাই সত্যি প্রমাণ করল। কলকাতায় মির্জ়া গালিব স্ট্রিটের হোটেলে মঙ্গলবার রাতে আগুন লাগে। আগুনের ভয়াবহতার থেকেও ভয়াল রূপ নেয় কালো ধোঁয়া। সেই ধোঁয়াতেই একে একে মৃত্যুর কোলে পড়েন ৯ জন। সেই তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের ‘আজকের পত্রিকা’, ‘আজকের আলো’-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত (৩৭), তাঁর স্ত্রী আফসানা শিরমিন (২৫), তাঁদের ছোট্ট ছেলে স্বর্ণাশিস দত্ত (৩) ও দেবাশিসের শ্বশুর আক্রম আলি (৬৪)।

    বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার দত্তবাড়ির ছেলে দেবাশিস। বাবা দিলীপ দত্ত। শহরেরই থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আক্রম আলির মেয়ে আফসানাকে বিয়ে করেন দেবাশিস। বাংলাদেশের একাধিক পত্রিকায় কাজ করেছেন দেবাশিস। দেবাশিস-আফসানার দুই ছেলে মেয়ে। স্বর্ণাশিসের দিদি রয়েছে, বয়স ৮ বছর। যদিও মেয়ে বাংলাদেশেই রয়েছে।

    গত ৩ অগস্ট স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন দেবাশিস। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন তাঁরা। শ্বশুর আক্রম আলি কলকাতাতেই ছিলেন। মঙ্গলবারই বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় আসেন তাঁরা। ১৫ জি মির্জ়া গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইন-এ ওঠেন।

    দেবাশিসের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে পাওয়া গেল, তাঁর শেষ পোস্ট। তাতে লেখা, ‘টানা ১৩ দিন পর ‌বেঙ্গালুরু বাই বাই’। সঙ্গে ফ্লাইটের একটি ছোট্ট ক্লিপ এবং স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে একটি ছবি। তখনও বোঝেননি, তাঁদের জন্য কী ভয়ঙ্কর পরিণতি অপেক্ষা করছে।

    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতার তরফে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, কলকাতার মির্জ়া গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইন-এ অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে এবং কয়েকজন বাংলাদেশি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কলকাতায় বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ এবং আহতদের পর্যাপ্ত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

    স্থানীয় পুলিশ এ পর্যন্ত উক্ত অগ্নিকাণ্ডে মোট ন’জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের বাংলাদেশি নাগরিক নিশ্চিত করা হয়েছে। এই পাঁচজনের মধ্যে চারজন কুষ্টিয়া নিবাসী এবং একই পরিবারের সদস্য এবং একজন ঢাকার আমিনবাজারের বাসিন্দা। এ ছাড়া একজন ভারতীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকিদের পরিচয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি। বাংলাদেশি হিসেবে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হলে, উপ-হাইকমিশন সেই অনুযায়ী নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আহত ছ’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ জানিয়েছে।

    ইতিমধ্যে উপ হাইকমিশন একটি হেল্পলাইন চালু করেছে, যার মাধ্যমে মৃতদের পরিবারের সদস্যরা এবং উক্ত ঘটনায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্তরা ২৪ ঘণ্টা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে যে কোনও ধরনের সহায়তা পাবেন।

    জরুরি হেল্পলাইন

    মো. ওমর ফারুক আনসারি

    দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক)

    মোবাইল: +৮৮ ০১৭৯৪৮৭৩৩০৫

    হোয়াটসঅ্যাপ: +৮৮০১৭৯৪৮৭৩৩০৫

    +৮৮০১৯০০৮৪৬১১১

  • Link to this news (এই সময়)