একটা আইফোন কেনার ইচ্ছা ছিল বছর ১৩-র কিশোরী। আর প্রেমিকের জন্য একটি বাইক। কিন্তু দাদু কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত বন্ধুদের দিয়ে দাদু শিবনকুট্টিকে (৬৭) খুন করানোর অভিযোগ উঠল ১৩ বছরের নাতনির বিরুদ্ধে। পালানোর আগে তারা নগদ টাকা এবং সোনার গয়নাও লুট করে বলে অভিযোগ। কিশোরীকে হেফাজতে নিয়ে অবজারভেশন হোমে পাঠিয়েছে পুলিশ। হেফাজতে নেওয়া হয়েছে তার বন্ধুদেরও। শনিবার কেরালার আলাপ্পুঝা জেলার কারুভাট্টা এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবনকুট্টির ছোট মেয়ে সন্তানসম্ভবা। আলাপ্পুঝার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর স্ত্রী মেয়ের কাছে রয়েছেন। বাড়িতে একাই ছিলেন তিনি। পুলিশের দাবি, ওই কিশোরী তার তিন নাবালক বন্ধুর সঙ্গে বৃদ্ধকে খুনের পরিকল্পনা করে। শনিবার রাতে ভিডিয়ো কলে তাদের বাড়ির রাস্তা দেখিয়ে দেয় সে। বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে তারা বাড়িতে ঢোকে। তার পরেই শুরু হয় নৃশংসতা।
অভিযোগ, প্রথমেই বৃদ্ধের হাত-পা বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে দেয় তারা। তার পরে দেওয়ালে তাঁর মাথা ঠুকতে শুরু করে। শেষে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় শিবনকুট্টিকে। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের পুরো দৃশ্য তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছিল ওই কিশোরী। অভিযোগ, পরের দিন সকালে সে নিজেই প্রতিবেশীদের কাছে ছুটে গিয়ে বলে, ‘দাদু মনে হয়, মদ খেয়ে ঘুমোচ্ছে। দরজা খুলছে না।’ শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢোকেন স্থানীয়রা। তখনই বৃদ্ধের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়।
সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। দেখা যায়, হাত-পা পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছে শিবনকুট্টিনের দেহ। শোয়ার ঘরের আলমারিও ভাঙা ছিল। উধাও সোনার গয়না, নগদ টাকা। পুলিশ প্রথমে পরিকল্পিত ডাকাতি বলে মনে করেছিল। পরে ফোনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখতেই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে আসে পুলিশের। শ্বাসরোধের কারণেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে। বৃদ্ধের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে।
তদন্তে নেমে বৃদ্ধের নাতনির উপরে সন্দেহ হয় পুলিশের। এর পরেই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তার তিন বন্ধুকেও হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। দাবি, জেরায় দাদুর উপরে নিজের ক্ষোভের কথা জানায় কিশোরী। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই কিশোরী একটি আইফোন কিনতে চেয়েছিল। আর প্রেমিকের জন্য একটা বাইক। তার সঙ্গে দাদু আপত্তিকর আচরণ করতেন বলেও অভিযোগ কিশোরীর। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের একটি অবজারভেশন হোমে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
প্রশ্ন: কোথায় এই খুনের ঘটনা ঘটেছে?
উত্তর: কেরলের আলাপ্পুঝা জেলার কারুভাট্টা এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।
প্রশ্ন: কে খুন হয়েছেন?
উত্তর: ৬৭ বছরের শিবনকুট্টিকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রশ্ন: খুনে কারা অভিযুক্ত?
উত্তর: নিহতের ১৩ বছরের নাতনি এবং তার তিন নাবালক বন্ধুর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছে।
প্রশ্ন: কী ভাবে বৃদ্ধকে খুন করা হয়?
উত্তর: অভিযোগ, প্রথমে বৃদ্ধের হাত-পা বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হয়। পরে তাঁর মাথা দেওয়ালে ঠোকা হয় এবং গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়।
প্রশ্ন: খুনের সময় কিশোরী কোথায় ছিল?
উত্তর: পুলিশের দাবি, ভিডিয়ো কলে কিশোরী তার বন্ধুদের বাড়িতে ঢোকার রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছিল। খুনের ঘটনাটিও সে ভিডিয়ো কলে দেখেছিল বলে অভিযোগ।
প্রশ্ন: খুনের কারণ কী বলে মনে করছে পুলিশ?
উত্তর: পুলিশ সূত্রে দাবি, কিশোরী নিজের জন্য একটি আইফোন এবং প্রেমিকের জন্য একটি বাইক কিনতে চেয়েছিল। টাকা নিয়ে দাদুর সঙ্গে তার ক্ষোভ ছিল বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। তবে এটিই একমাত্র কারণ কি না, তা এখনও তদন্তাধীন।
প্রশ্ন: দাদুর বিরুদ্ধে কিশোরীর আর কী অভিযোগ?
উত্তর: কিশোরী দাবি করেছে, তার দাদু তার সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করতেন। এই অভিযোগের সত্যতাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
প্রশ্ন: খুনের পর বাড়ি থেকে কী লুট করা হয়েছিল?
উত্তর: নগদ টাকা ও সোনার গয়না লুট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
প্রশ্ন: পুলিশ কী ভাবে কিশোরীর দিকে সন্দেহের তির ঘোরায়?
উত্তর: প্রথমে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ডাকাতি বলে মনে করা হলেও পরে ফোনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পায়। এরপর তদন্তে কিশোরীর ভূমিকা সামনে আসে।
প্রশ্ন: অভিযুক্তদের কী হয়েছে?
উত্তর: ১৩ বছরের কিশোরী এবং তার তিন নাবালক বন্ধুকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের অবজারভেশন হোমে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।