• এক ধাক্কায় কলকাতায় বাড়ি বিক্রি বাড়ল ২২ শতাংশ, সস্তার ফ্ল্যাট কোথায় পাওয়া যাচ্ছে?
    আজ তক | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • কলকাতার আবাসন বাজারে কিছুটা স্বস্তির ছবি। চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) আগের তিন মাসের তুলনায় কলকাতায় বাড়ি বিক্রি বেড়েছে ২২ শতাংশ। দেশের শীর্ষ আটটি আবাসন বাজারের মধ্যে এই বৃদ্ধিই সবচেয়ে বেশি। তবে এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় কলকাতায় বাড়ি বিক্রি এখনও ৮.৬ শতাংশ কম। অর্থাৎ বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও পুরোপুরি পুরনো ছন্দে ফেরেনি কলকাতার রিয়েল এস্টেট বাজার।

    আবাসন সংক্রান্ত সংস্থা PropTiger-এর সর্বশেষ ‘Real Insight Residential’ রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ আট শহরে চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মোট ৯১,৭২৯টি বাড়ি বিক্রি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৯৭,৬৭৪টি বাড়ি। অর্থাৎ বছরে বিক্রি কমেছে ৬.১ শতাংশ। আগের ত্রৈমাসিকের তুলনাতেও বিক্রি কমেছে ৪.৪ শতাংশ।

    তবে নতুন বাড়ির সরবরাহ কমেনি। বরং নতুন আবাসন প্রকল্পের লঞ্চ বছরে ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৯,১৬১ ইউনিট হয়েছে। অর্থাৎ বাজারে নতুন বাড়ি আসার গতি বজায় রয়েছে এবং বিক্রিও নতুন সরবরাহের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।

    কলকাতায় কেন বাড়ল বিক্রি?

    কলকাতায় আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় ২২ শতাংশ বিক্রি বাড়া নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অন্য বড় শহরগুলির তুলনায় এটি সবচেয়ে ভালো ত্রৈমাসিক ফল। তবে বছরে হিসাব করলে ছবিটা এখনও পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। ২০২৫ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের তুলনায় কলকাতায় বিক্রি ৮.৬ শতাংশ কম। বারাসত, মধ্যমগ্রাম, কেষ্টপুর, বাগুইআটি ইত্যাদি এলাকায় ফ্ল্যাটের গড় দাম তুলনামূলকভাবে কম।  

    অর্থাৎ, গত কয়েক মাসে কলকাতায় বাড়ি কেনার আগ্রহ ফের বাড়তে শুরু করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। উৎসবের মরসুম সামনে আসায় আগামী ত্রৈমাসিকে এই চাহিদা আরও বাড়ে কি না, এখন সেটাই দেখার।

    পুণে-বেঙ্গালুরুতে ধাক্কা

    দেশের অন্য শহরগুলিতে ছবিটা বেশ আলাদা। পুণেতে বাড়ি বিক্রি বছরে ২০.৮ শতাংশ কমে ১২,৬৪২ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। আহমেদাবাদে বিক্রি কমেছে ২০.২ শতাংশ। বেঙ্গালুরুতে ৯.২ শতাংশ এবং দিল্লি-NCR ও MMR-এ ৭ শতাংশ করে বিক্রি কমেছে।

    বিশেষ করে প্রযুক্তি শিল্পের উপর নির্ভরশীল শহরগুলিতে ক্রেতাদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। AI-এর কারণে কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে ছাঁটাইয়ের খবর বাড়ির ক্রেতাদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ১ কোটি টাকার কম দামের বাড়ি কিনতে চান এমন ক্রেতাদের মধ্যে এই প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।

    হায়দরাবাদ-চেন্নাইয়ে উল্টো ছবি

    হায়দরাবাদে বছরে বাড়ি বিক্রি ১৪.৬ শতাংশ বেড়ে ১৩,১৯৬টি হয়েছে। চেন্নাইয়ের ফল আরও ভালো। সেখানে বিক্রি ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৭,১৮৩টি হয়েছে। আটটি বড় বাজারের মধ্যে চেন্নাইতেই বার্ষিক বিক্রি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

    বাড়ি বিক্রি কমলেও দাম বাড়ছে!

    আবাসন বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- বিক্রি কমলেও বাড়ির দাম কিন্তু কমছে না। বরং দেশের আটটি বড় শহরে গড় দাম আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় আরও ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি বর্গফুটে ১০,১৫৩ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ টানা দুই ত্রৈমাসিক ধরে গড় আবাসন মূল্য ১০,০০০ টাকার উপরে রয়েছে।

    বেঙ্গালুরুতে দাম সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। সেখানে বছরে দাম বেড়েছে ২৬ শতাংশ। MMR-এ গড় দাম এখন প্রতি বর্গফুটে ১৫,৪২২ টাকা। পুণেতেও প্রথমবারের মতো গড় দাম ৮,০০০ টাকার গণ্ডি পার করেছে। 

    অন্যদিকে, শীর্ষ আট শহরের মধ্যে সবচেয়ে সস্তা বাজার এখনও আহমেদাবাদ। সেখানে গড় দাম প্রতি বর্গফুটে ৫,২৯৫ টাকা।

    সামনে কী হতে পারে?

    PropTiger-এর মতে, আগামী উৎসবের মরসুম আবাসন বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। উৎসবের সময়ে বাড়ি কেনার প্রবণতা বাড়লে Q3-তে বিক্রিও বাড়তে পারে। কলকাতায় চাহিদা আরও বাড়া এবং চেন্নাইয়ে আবাসনের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়াও বাজারকে সাহায্য করতে পারে।

    তবে বড় সমস্যা থেকে যাচ্ছে বাড়ির দাম। বিভিন্ন শহরে দাম দ্রুত বাড়ায় মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বাজেটের উপর চাপ বাড়ছে। ফলে আগামী দিনে বাড়ির চাহিদা কতটা বজায় থাকে, তার অন্যতম নির্ধারক হতে পারে সাধ্যের মধ্যে বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে কি না।
  • Link to this news (আজ তক)