• পাঞ্জাবেই সংখ্যালঘু হওয়ার পথে শিখেরা! ‘বেশি করে সন্তান নিন’, বলছে উদ্বিগ্ন অকাল তখত
    প্রতিদিন | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • পাঞ্জাবে ভোটারদের বৃহত্তম সংখ্যা শিখ সম্প্রদায়ের। শিখ ভোট কোনদিকে যাবে, তার উপর নির্ভর করে নির্বাচনের ফলাফল। যদিও উন্নত জীবনের খোঁজে তথা জীবিকার সন্ধানে বিরাট সংখ্যক শিখ জনতা ভিন রাজ্যে, এমনকী বিদেশি চলে যাচ্ছে। এর ফলে পঞ্চ নদের দেশেই ক্রমশ সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে শিখরা। এইসঙ্গে বদলে যাচ্ছে জনবিন্যাস। এই অবস্থায় বেশি করে সন্তান উৎপাদনের পরামর্শ দিল অকাল তখত।

    বেশি সন্তান নেওয়ার পাশাপাশি প্রজননক্ষম বয়সের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতেও উৎসাহিত করল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অকাল তখত। ২০২১ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত ‘জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা’র প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাঞ্জাবের ‘প্রজনন হার’ কমে ১.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৭.৭ শতাংশ হলেও, পূর্ববর্তী দশকে শিখ সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৮.৪ শতাংশ।

    এই অবস্থায় অকাল তখতের ভারপ্রাপ্ত জথেদার জ্ঞানী কুলদীপ সিং গরগাজ ১৭ আগস্ট ২০২৬ এক বিবৃতিতে শিখদের ৩০ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে করার এবং অন্তত তিনটি সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বরেও। গারগাজই একমাত্র অকাল তখত নেতা নন যিনি এই ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জ্ঞানী গুরবচন সিং-ও ২০১৫ সালের মে মাসে অনুরূপ মন্তব্য করেছিলেন।

    পাঞ্জাবের মূলধারার রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (আপ), কংগ্রেস এবং শিরোমণি অকালি দল (এসএডি) গরগাজের বক্তব্যের বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছে। পাঞ্জাবের রাজনীতিবিদরা সাধারণত অকাল তখত কর্তৃপক্ষের কোনও বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। একসময় গারগাজকে পরোক্ষভাবে নিশানা করলেও মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে ‘শিখ-বিরোধী’ ও ‘ধর্ম-বিরোধী’ ঘোষণা করে সাম্প্রতিক নির্দেশিকা জারির পর আপ-ও এখন নীরব।
  • Link to this news (প্রতিদিন)