আখ খেয়ে নিচ্ছে ইথানলে! কম উৎপাদনে চিনির দামে রেকর্ড বৃদ্ধি
প্রতিদিন | ২০ আগস্ট ২০২৬
বাড়তি ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (E20) বিক্রি চালু করতে গিয়ে নয়া ফ্যাসাদে সরকার। ইথানল ফ্যাক্টারিতে অতিরিক্ত আখের জোগান দিতে গিয়ে চিনি মিলে সংকট। যার জেরে এবার দেশজুড়ে রেকর্ড হারে বাড়ছে চিনির দাম। মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন শহরে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়েছে চিনি। স্বাভাবিকভাবেই আমজনতা সমস্যায়।
এ বছর চিনির দাম যে বাড়তে পারে সে আশঙ্কা আগেই ছিল। বর্ষা অনিয়মিত হওয়ায় আখের উৎপাদন কিছুটা মার খেয়েছে। সমস্যা হল, উৎপাদন কম হওয়ার পাশাপাশি ইথানল কারখানায় চাহিদা বৃদ্ধি। দেশে ইথানলের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য গত কয়েক বছরে ইথানল ফ্যাক্টারি বাড়াতে উৎসাহ দিয়েছে কেন্দ্র। ইথানল তৈরিতে প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ ইথানল প্রয়োজন। বিপুল চাহিদা মেটাতে এই কারখানাগুলি কৃষকদের কাছে কিছুটা বেশি দামে আখ কিনছে। যার ফলশ্রুতিতে এই মুহূর্তে চিনি মিলগুলিতে আখের সরবরাহ কম। কমছে উৎপাদন। এদিকে বাজারের চাহিদা মিটছে না। অবধারিতভাবে বাড়ছে চিনির দাম।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দেশের সবচেয়ে বড় ‘চিনি হাব’ হিসাবে পরিচিত মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে কুইন্টালপ্রতি চিনির দাম ৫ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত ছুঁয়ে ফেলেছে। যা চলতি মরশুমে রেকর্ড। গোটা দেশে গড়ে পাইকারিতে চিনির দাম ৫২.৩ টাকা কেজি। খোলাবাজারে এই দাম আরও অনেকটা বেশি। দেশের বিভিন্ন শহরে চিনির দাম মঙ্গলবার ৫৮ টাকা থেকে ৬৫ টাকা পর্যন্ত গিয়েছে।
চিনির মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন কমার ফলে সমস্যা যে শুধু ভারতে হবে তাই নয়, গোটা বিশ্বেই হবে। কারণ গোটা বিশ্বের চিনির চাহিদার একটা বড় অংশ পূরণ করে ভারত। এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের চিনির চাহিদার প্রায় ৮-১২ শতাংশ সরবরাহ করে ভারত। যদিও এই মুহূর্তে সরকার চিনি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে।