বোধাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত ‘মিলটন’ ছবির সেটে হাজির ‘বর্তমান’।
জীবন তো একটা অনুসন্ধান। অথচ কীসের খোঁজ স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারে না। বৃষ্টিও না। গবেষক মেয়েটির সঙ্গে সেদিন ঢুকে পড়া গেল একটা ভাঙা বাড়িতে। প্রায়ান্ধকার সিঁড়ি। সুড়ঙ্গের মতো। ঝুরঝুরে দেওয়াল আঁকড়ে রয়েছে বট-অশ্বত্থের ঝুরি। বাঁকের মুখে থমকে যেতে হল। একজন রহস্যময় মানুষ পথ রোধ করে দাঁড়ালেন। এগিয়ে গেল বৃষ্টি। হালকা আলো-আঁধারির আড়ালে। কীসের অনুসন্ধান তার?
হঠাৎ ভেসে এল কণ্ঠস্বর — ‘ওকে... কাট।’ বাকি সিঁড়িটুকু হুড়মুড়িয়ে উঠতেই চমক। বৃষ্টির শরীরের সঙ্গে লেগে রয়েছে একটি পুতুল। ভাঙাচোরা ঘর থুড়ি সেটের অন্ধকার আড়াল থেকে আবির্ভূত হলেন মধুরা পালিত। ভারতের অন্যতম অগ্রণী এবং মহিলা চিত্রগ্রাহকদের মধ্যে অন্যতম। তাঁরও শরীরের সামনে বেল্ট দিয়ে সাঁটা ক্যামেরা। মুচকি হেসে বললেন, ‘আসলে এই পুতুলটাই মূল চরিত্র। মিলটন।’ আর মিলটন যাঁর ‘কোলে’, তাঁকে ইদানীং সিনেমা ও ওয়েবসিরিজে বেশি কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। শ্রুতি দাস। মিলটনকে কোল থেকে নামিয়ে মনিটারে শট দেখতে ছুটলেন অভিনেত্রী।
ভেন্ট্রিলকুইস্ট ডল বা কথা বলা পুতুলকে কাহিনির কেন্দ্রে রেখে সম্পাদক বোধাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করছেন তাঁর প্রথম ছবি ‘মিলটন’। সেই ছবির শ্যুটিং দেখতেই ভারতলক্ষ্মী স্টুডিওতে পা রাখা। রক্ত মাংসের চরিত্র নয়। অথচ মিলটন বৃষ্টিরই আর একটি সত্তা। এই অভিনব চরিত্রায়ণে উত্তেজিত শ্রুতির অনুভূতি, ‘নিজেকে একইরকমভাবে দুটো স্তরে সজাগ রাখা। বৃষ্টির অভিব্যক্তি মুখে ফুটিয়ে মিলটন হয়ে কথা বলাটা যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি আকর্ষণীয়। এর জন্য আমাকে ওয়ার্কশপ করতে হয়েছে। অ্যাকশন বললেই আমি আর একা নই।’
চিত্রনাট্য অনুযায়ী ছবিতে শ্রুতির সহ অভিনেতারা অর্জুন চক্রবর্তী, ঐন্দ্রিলা বসু, অঙ্কিতা মাঝি, আত্মদীপ ঘোষ প্রমুখ। ওঁদের মধ্যে অর্জুন হিরোর ভূমিকায়। অভিনেতা জোর দিলেন ভেন্ট্রলকুইলিজমের মতো হারিয়ে যাওয়া আর্টফর্মের উপর। বললেন, ‘এই ধরনের মানুষদের প্রতিভা খুব একটা স্বীকৃতি পায় না। অথচ এঁদের অধ্যাবসায় অবাক করে দেয়।’ বিষয়ের অভিনবত্বের জন্যই ‘মিলটন’-এ অভিনয়ে রাজি হয়েছেন। এর আগে ‘এক্স=প্রেম’-এর সহ অভিনেত্রী শ্রুতি দাসের উপর শ্রদ্ধাশীল অর্জুনও অনুসন্ধানী, ‘জুটি হিসেবে আমাদের এই প্রথম কাজ। দর্শকের মতামতের অপেক্ষায় আছি।’
চোদ্দো বছর পর কলকাতায় বোধাদিত্য ফিরেছেন শিকড়ের অনুসন্ধানে। স্বীকার করে নিলেন, মিলটন তাঁরই অলটার ইগো। ছোটোবেলা থেকে ভেন্ট্রলকুইলিজম নিয়ে আগ্রহ ছিলই। তাঁর দাবি, ‘এমন বিষয় নিয়ে বাংলা ছবি হয়নি।’ ছবিটির গল্প, চিত্রনাট্য, সম্পাদনা এবং সুরের দায়িত্ব নিজের জিম্মায় রেখে পরিচালকের চেয়ারে বসাটাও বোধাদিত্যর একপ্রকার আত্ম অনুসন্ধানও।