• ভূরি ভূরি সুযোগ নষ্টের ম্যাচে টাইব্রেকারে জয়, ডুরান্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল
    প্রতিদিন | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • ইস্টবেঙ্গল ০
    এসসি দিল্লি ০
    (টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে জয়ী ইস্টবেঙ্গল)

    ইন্ডিয়ান আর্মির থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী দিল্লি। এবারের ডুরান্ডে চার ম্যাচে ২১ গোল করে নজর কেড়েছে। তার উপর শেষ আটে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। এমন একটা দলের সঙ্গে সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের চাপ বাড়িয়েছিল পিভি বিষ্ণুর না থাকা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁর গোলেই জিতেছিল লাল-হলুদ। বুধবাসরীয় সন্ধ্যায় তাঁর জায়গায় নামলেন বিপিন সিং। তাতে অবশ্য লাভের লাভ কিছু হল না। দলে বাঘা বাঘা ফরোয়ার্ডরা থাকলেও গোলের দেখা পেতে পুরো ৯০ মিনিট তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হল হাবাস বাহিনীকে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে জিতে ফাইনালে গেল ইস্টবেঙ্গল।

    এদিন শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল ইস্টবেঙ্গল। ৩ মিনিটে জেসিন টিকে-কে বল বাড়িয়ে দুরন্ত আক্রমণ তৈরি করেন এডমুন্ড। বাঁদিক থেকে তিনি বিপিন সিংকে বল বাড়ান। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ১৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে রশিদের দুরন্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে প্রতিহত। ১৯ মিনিটে জেসিনের শটও পোস্টে লাগে। পালটা আক্রমণে ৩২ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করে এসসি দিল্লি। এক মিনিট পর রদ্রিগোকে বক্সে ফাউল করে বসেন সন্দীপ মান্ডি। পেনাল্টি পায় দিল্লি। তবে ইস্টবেঙ্গলের ত্রাতা গোলকিপার প্রভসুখন গিল। ৩৫ মিনিটে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রদ্রিগোর পেনাল্টি রুখে দেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়। এই অর্ধে ৫৮ শতাংশ বলের দখলে এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দিল্লির প্রতি-আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন আনোয়ার। ৫৭ মিনিটে জোড়া বদল করে ইস্টবেঙ্গল। হার্দিক ভাট ও এডমুন্ডের জায়গায় নামেন লালচুংনুঙ্গা ও ইকোনোমিডিস। ৬৪ মিনিটে জেসিনকে তুলে ডেভিডকে নামান কোচ। এরপর ফের পোস্টে লাগে ইস্টবেঙ্গলের শট। ৭৪ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে রশিদের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে পোস্টের নিচে আঘাত করে ফিরে আসে। অর্থাৎ ম্যাচে রশিদের দু’টি শটই পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এক মিনিট পরেই জোড়া আক্রমণের সুযোগ তৈরি করে ইস্টবেঙ্গল। বাঁ-দিক থেকে ইকোনোমিডিসের মাইনাসে বল পান ডেভিড। সামনে তখন শুধু গোলকিপার। কিন্তু সহজ সুযোগও কাজে লাগাতে পারলেন না তিনি। তাঁর শট গোলকিপারের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। একাধিক সুযোগ, তিনবার পোস্টে বল এবং একটি পেনাল্টি বাঁচানোর পরেও গোলের দেখা পেল না ইস্টবেঙ্গল। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য অবস্থায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

    টাইব্রেকারে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে প্রথম শট নিতে এসে গোল করেন আনোয়ার আলি। এরপর রোহিত দানু, নুঙ্গা, ক্রিস ইকোনোমিডিস এবং রশিদ – পাঁচ জনই নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান। অন্যদিকে, এসসি দিল্লির জুয়ান পেনার শট রুখে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক গিল। রদ্রিগো, ডুভান এবং মহম্মদ আইমেন গোল করলেও পেনার সেই মিসই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। ম্যাচের সময় পেনাল্টি মিস করা রদ্রিগো অবশ্য টাইব্রেকারে গোল করে ভুল শুধরে নেন। নির্ধারিত সময়ে দুই দলের লড়াই ছিল সমানে-সমান। কিন্তু স্নায়ুর পরীক্ষায় বাজিমাত করল ইস্টবেঙ্গল। ২০২৩ সালের পর ফের ডুরান্ড কাপের ফাইনালে লাল-হলুদ। এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট কাটল লাল-হলুদ। তবে গোল নষ্টের প্রদর্শনী চিন্তায় রাখবে হাবাসের দলকে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)