• ইন্দো-বাংলা সীমান্তে ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট তৈরির প্রস্তুতি, জমি হস্তান্তর করল প্রশাসন
    eTV Bharat | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • মালদা, 19 অগস্ট: অবশেষে ইংরেজবাজারের মহদিপুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট নির্মাণের জন্য নির্ধারিত 25 একর জমির মধ্যে 6.70 একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিল জেলা প্রশাসন ৷ এদিন জেলা প্রশাসনিক ভবনের আরটিসি হলে ওই জমির দলিল ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার আন্ডার সেক্রেটারি নারায়ণ সিং চৌহানের হাতে তুলে দেন জেলাশাসক রাজনবীর কাপুর সিং ৷ উপস্থিত ছিলেন জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক শ্রীনিবাস পাটিল-সহ অন্য প্রশাসনিক কর্তারা ৷ এর ফলে মহদিপুর স্থল বাণিজ্য বন্দরে আরও বড় পরিকাঠামো নির্মাণের কাজে হাত পড়বে ৷ জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বাকি জমিও খুব তাড়াতাড়ি এলপিএআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে ৷

    জেলাশাসক জানিয়েছেন, “মহদিপুর আন্তর্জাতিক সীমান্তে আধুনিক পরিকাঠামো তোলার ক্ষেত্রে ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট নির্মাণ খুব গুরুত্বপূর্ণ ৷ এর জন্য এদিনের জমি হস্তান্তর সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ৷ ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট নির্মিত হলে দু’দেশের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য চলাচল আরও নিরাপদ হবে ৷ এতে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের সময়ও বাঁচবে ৷ পাশাপ্শি ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে ৷”

    উল্লেখ্য, যে কোনও আন্তর্জাতিক সীমান্তে থাকা ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট দুটি দেশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী যাতায়াত সহজতর করে তোলে ৷ একই ছাদের নীচে কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও চেকিং-এর কাজ হওয়ায় ভিসা পরীক্ষা ও অন্যান্য কাজে সময়ও বাঁচে ৷ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতেও এই আইসিপিগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে ৷ আইসিপিতে তৈরি করা হয় পণ্যের গুদাম ৷ থাকে পার্কিং-এর সুবিধে ৷ এর ফলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাজের সমণ্বয় রক্ষাও সহজ হয় ৷ আইসিপিতে আধুনিক স্ক্যানার ও প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে জাতীয় নিরাপত্তা অনেকটা সুনিশ্চিত হয় ৷ দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয় ৷ সবচেয়ে বড় বিষয়, এর ফলে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেড়ে ওঠে ৷

    জেলার অন্যতম রফতানিকারক ও মহদিপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ভূপতি মণ্ডল বলেন, “মহদিপুর সীমান্ত ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হলেও এখনও এখানে সেভাবে পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি ৷ এখানে এখনও কোনও সরকারি পার্কিং প্লেস নেই ৷ কাস্টমসের ছাড়পত্র পেতে বহু সময় লেগে যায় ৷ এর জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এখানে আইসিপি নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি ৷ কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের আবেদনের ভিত্তিতে এখানে আইসিপি নির্মাণের অনুমোদনও দেয় ৷ কিন্তু জমি সংক্রান্ত সমস্যায় এখনও সেই কাজ শুরু হয়নি ৷ অবশেষে আজ কিছু জমি জেলা প্রশাসন এলপিএআইকে হস্তান্তর করেছে বলে খবর পেয়েছি ৷ এতে আমরা আনন্দিত ৷ আশা করছি বাকি জমিও খুব দ্রুত হস্তান্তর করা হবে ৷ এখানে আইসিপি তৈরি হলে দু’দেশের যোগাযোগ অনেক বেড়ে যাবে ৷ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেরও উন্নতি ঘটবে ৷”

    এদিন জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে জেলা প্রশাসন ও এলপিএআই-এর আধিকারিকরা মহদিপুরে প্রস্তাবিত আইসিপি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন ৷ তাঁরা ইন্দো-বাংলা সীমান্তও ঘুরে দেখেন ৷
  • Link to this news (eTV Bharat)