দু'টি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘিরে উত্তেজনা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের আটকে রেখে আগুন জ্বালিয়ে তাণ্ডব করা হয় বলেও অভিযোগ। দু'পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। এই তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে এবিভিপির বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা SFI এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের দিকে আঙুল তুলেছে ABVP। বুধবার রাতেই যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় এবিভিপি। আজ, বৃহস্পতিবার, এই হামলার প্রতিবাদে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অভিযানের ডাক দিয়েছে তারা।
সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ
জানা গিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করেই দ্বন্দ্ব হয়।এই সভাকে কেন্দ্র করেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে SFI ও ABVP-র সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি ঘটনা ঘটে। দু'পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। সংঘর্ষে এবিভিপির অন্তত চারজন সমর্থক জখম হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে আছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সভাপতি নিখিল রায়-ও।
এবিভিপির দাবি
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষই একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। এবিভিপির অভিযোগ, সাধারণ সভার নামে ডেকে পরিকল্পিত ভাবে এসএফআই এবং ডিএসও-ডিএসএফ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও নির্বাচিত ছাত্র ইউনিয়ন নেই। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। এরই মধ্যে কী ভাবে এসএফআই এবং অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ে জিবি (General Body) বৈঠক ডাকে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। এরই প্রতিবাদ করায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন এবিভিপি সমর্থকদের ওপর আচমকা চড়াও হয় বলে অভিযোগ তাদের।
নিখিল রায় বলেন, ‘মতাদর্শের বিরোধিতা হতে পারে, কিন্তু শারীরিক আক্রমণ কোনওভাবেই গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির ভাষা নয়। এই হামলার উচিৎ জবাব আমরা দেব।’
আটকে রেখে আগুন
যদিও এই ঘটনার জন্য এবিভিপিকেই দায়ী করেছে এসএফআই এবং বামপন্থী সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, এবিভিপি এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলি বহিরাগতদের নিয়ে এসে হামলা এবং তাণ্ডব চালায়। ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের বাম মনোভাবাপন্ন পড়ুয়াদের তাড়া করে অরবিন্দ ভবনে আটকে রাখে। সেখানে অন্তত ৩০ জনকে আটকে রেখে ওই ভবনের বাইরে ও ক্যাম্পাসে আগুন জ্বালানো হয়। মারধর করার পাশাপাশি গণপিটুনির চেষ্টা করা ও ইট-পাটকেল ছোড়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। তাদের দাবি, আগে থেকে পরিকল্পনা করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার এবিভিপির
যদিও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবিভিপি। তাদের দাবি, থানার বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখানো হলেও ক্যাম্পাসের ভিতরে হামলা চালানো হয়নি। ABVP-র রাজ্য মিডিয়া ইন-চার্জ অনন্ত বারুই দাবি করেন, এসএফআই এবং বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন পরিকল্পিতভাবে অশান্তি চালিয়ে এবিভিপির নাম বদনাম করতে চাইছে। যারা ওই হামলা চালিয়েছে তারা কেউই এবিভিপির সঙ্গে জড়িত নয়।