• আশিসের অপমৃত্যু: 'সুইসাইড নোট', অরিজিনাল কপির সঙ্গে ছিল দু'টি ফোটোকপিও!
    এই সময় | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • হেমাভ সেনগুপ্ত, রামপুরহাট

    হাতে লেখা 'সুইসাইড নোট'-এর অরিজিনাল কপি ছিল বাড়ির একতলার ঘরে সোফার উপরে। আর দু'টি ফোটোকপির একটি ছিল বাড়ির দোতলায় এবং অন্যটি বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয়ে। যেখান থেকে রবিবার, ১৬ অগস্ট সকালে উদ্ধার হয় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার ও তৃণমূল নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ। আশিসের স্ত্রী সুস্মিতা বুধবার বলেন, 'সকালে যে কখন ঘুম থেকে উঠেছিলেন, তা জানতে পারিনি। যে মানুষটা একটা কাগজ ফোটোকপি করার জন্য লোক ডাকতেন, সেই মানুষটাই সুইসাইড নোট লিখে নিজে ফোটোকপি করে তার পরে পার্টি অফিসে এ রকম কাণ্ড ঘটাবেন, তা এখনও ভাবতে পারছি না।'

    পার্টি অফিসে থাকা কোনও ফোটোকপিয়ার থেকে তিনি নিজে ওই ফোটোকপি করেছিলেন নাকি অন্য কাউকে দিয়ে করিয়েছিলেন, আবার অন্য কাউকে দিয়ে ফোটোকপি করালে 'সুইসাইড নোট'-এর বিষয় সেই ব্যক্তির নজরে পড়ল না কেন, তদন্তে সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এ দিন সুস্মিতা বলেন, 'উনি (আশিস) রোজ মর্নিংওয়াকে যেতেন। মন্দিরগুলোয় প্রণাম করে পার্টি অফিসে ঢুকে চা খেতে খেতে খবরের কাগজ পড়তেন। সে দিন কখন যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, কিচ্ছু টের পাইনি। আমার পা ভাঙা... হাঁটতেও পারি না। তবে তবে গত কয়েক দিন ধরে উনি বেরনো বন্ধ করে দিয়েছিলেন।' কেন? সুস্মিতার দাবি, হেনস্থা হওয়ার পর থেকেই তাঁর স্বামী মনমরা হয়ে পড়েছিলেন। আশিসের স্ত্রীর কথায়, 'বুঝতে পেরেছিলাম, ডিপ্রেশনে ভুগছেন। যে দিন শক্তিগড়ে, চোর, চোর স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, আজেবাজে কথা বলা হয়েছিল, সে দিন মনে খুব আঘাত পেয়েছিলেন, খুব। তার পরে একদম চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন।'

    দলীয় সভায় যোগ দিতে ২১ জুলাই গাড়িতে কলকাতার উদ্দেশে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রওনা হন। সে দিন শক্তিগড়ের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে আশিসের গাড়ি থামানোর একটি ভিডিয়ো ক্লিপ (যার সত্যতা 'এই সময় যাচাই করেনি) প্রাক্তন মন্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরে ভাইরাল। সেখানে প্রাক্তন মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এক যুবককে বলতে শোনা যাচ্ছে, 'কী করতে যাচ্ছেন? চুরি করে দল শেষ করে দিয়ে যাচ্ছেন? বয়স না-হলে চাবকে পিঠের ছাল তুলে দিতাম।'

    একদা কংগ্রেস করা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৮৭ ও ১৯৯১ সালে সে দলের প্রার্থী হয়ে দু'বার পরাজিত হন। ১৯৯১-এর ভোটে দাঁড়াতে গিয়ে প্রচারের খরচ জোগাড় করার জন্য তাঁকে স্ত্রীর গয়না বিক্রি করতে হয়েছিল। কংগ্রেসে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে ১৯৯৮-এ তিনি তৃণমূলে যোগ দেন।

    বুধবার বিকেলে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রামপুরহাটের বাড়িতে এসে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের তরফে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সৌগত রায়রা। আশিসের ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে তাঁরা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'সম্ভবত অপমানেই এই পথ বেছে নেওয়া। তবে রাজনীতি করতে গেলে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়। আমাদের দেখে অনেকেই এখন চোর চোর বলছে। গায়ে মাখলে চলবে?' আশিসের স্ত্রী সুস্মিতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন দলনেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে রামপুরহাটে আসতে সুস্মিতা অনুরোধ করেছেন। সুস্মিতা জানান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়েছেন যে, তিনি আসবেন।

  • Link to this news (এই সময়)