পঃ মেদিনীপুর ও হুগলিতে বন্যা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ? বিস্তারিত
আজ তক | ২০ আগস্ট ২০২৬
টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে নদীর জলস্তর। যার জেরে পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ দিকে যাচ্ছে। বিশেষত, সবং, নারায়ণগড়, মোহনপুর, দাঁতন এবং কেশোয়াড়ির অবস্থা খারাপ। আর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
যতদূর খবর, মুখ্যমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির গ্রাসে পড়া এলাকার বাস্তব হাল নিজের চোখে দেখতে চাইছেন। সেই সঙ্গে তিনি আজ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন বলে খবর মিলছে। এরপর তিনি আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারেন।
ঠিক কী পরিস্থিতি?
সবংয়ের বন্যা পরিস্থিতি সবথেকে খারাপ হয়েছে। এখানকার ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতই সুবর্ণরেখা এবং কেলেঘাই নদীর জলে বন্যা পরিস্থিতির কবলে পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যার জেরে জনজীবন প্রায় স্বব্ধ। ইতিমধ্যেই এই এলাকার তিন বছরের শিশু সহ দু'জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর মিলছে।
ওদিকে পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের আরও একাধিক জায়গার অবস্থা খারাপ। এই দুই জেলায় ৬০০-এর বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে খবর। এই সব অঞ্চলের একটা বড় অংশের মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীগ্রাম, ময়না, ভগবানপুর, পটাশপুরের হাল খুবই খারাপ। অনেক বাড়িতেই জল ঢুকে গিয়েছে। যার জেরে স্তব্ধ জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতে পূর্ব মেদিনীপুরে ৭১টি ত্রাণশিবির খুলেছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে ত্রিপল দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। চলছে ত্রাণ বিলি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণকাজে নেমেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ। এছাড়া রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও এসডিআরএফ-কেও নামানো হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে প্রায় ৪০০ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মীও কাজ করছেন বলে জানা যাচ্ছে।
ওদিকে হাল খারাপ হুগলির আরামবাগেরও। এই অঞ্চলের একাধিক জায়গায় জমে জল। চলছে ত্রাণ বিলি। এমন অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতি যাচাই করতে গিয়েছেন।
আজ মুখ্যমন্ত্রী মূলত সবংয়ের অবস্থা পরিদর্শনে যেতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে বলবেন কথা। মাথায় রাখতে হবে, এখনও পর্যন্ত সবংয়ের অবস্থা খুব খারাপ। এখানে বিপদসীমার উপর জল উঠে এসেছে। যার জেরে ভেসে গিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাই দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইছে সরকার। সেই মতো ত্রাণ বিলি থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে খবর প্রশাসন সূত্রে।