• এনবিইউ-তে অধ্যাপক সংকট, ৯৯টি পদ ফাঁকা!
    বর্তমান | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: স্বাধীন ভারতের পথ চলা শুরুর মাত্র ১৫ বছর পর ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার ৬৪ বছর পরেও ৯৯ জন অধ্যাপক ঘাটতি নিয়ে পথ চলছে উত্তরের এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়টি। একসময় উত্তরবঙ্গের সেরা ছাত্রছাত্রীরা এখানেই পড়তে আসতেন। ছিলেন নামজাদা ও বাঘাবাঘা সব অধ্যাপক। আর সেই বিশ্ববিদ্যালয়কেই এখন চরম অধ্যাপক ঘাটতির সমস্যা আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে! পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কিছু বিভাগে স্থায়ী কোনো অধ্যাপকই নেই। আবার কিছু বিভাগ রয়েছে, যেখানে মাত্র এক-দু’জন করে স্থায়ী অধ্যাপক আছেন। বাকি জায়গাগুলি চুক্তিভিত্তিক অথবা অতিথি অধ্যাপকদের দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভর্তির আগ্রহ কমেছে। ভর্তি হওয়ার জন্য বহু বিভাগে পর্যাপ্ত আবেদন পর্যন্ত জমা পড়েনি। সেই সঙ্গে অধ্যাপক সংকট একটা চরম পরিস্থিতিতে পৌঁছনোয় কর্তৃপক্ষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। 

    বিগত সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে প্রচুর ডামাডোল হয়েছে। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘ জলঘোলা হয়েছিল। থানা, পুলিশ, আদালত থেকে শুরু করে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত মামলা গড়িয়েছে। এখনও উপাচার্য নেই এই বিশ্ববিদ্যালয়। তার পাশাপাশি এই বিপুল পরিমাণ অধ্যাপক ঘাটতি বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যত বিপাকে ফেলে দিয়েছে। যার প্রভাব পঠনপাঠনের উপরেও ব্যাপকভাবে পড়েছে। 

    উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম রেজিস্টার স্বপন রক্ষিত বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু শিক্ষকের পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। অধ্যাপক সংখ্যা কম থাকার কারণে পঠনপাঠনে সমস্যা হচ্ছে। কিছু বিভাগ অধ্যাপকশূন্য ও এক-দু’জন অধ্যাপক নিয়ে চলছে। পুরো বিষয়টি মাস খানেক আগেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তবে কবে এই সমস্যার সমাধান হবে তা এখনও স্পষ্ট করে আমাদের জানা নেই। 

    উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৩৪টি বিভাগ রয়েছে। তাতে মোট অধ্যাপকের পদ ২৬৮। তারমধ্যে ১৬৯ জন স্থায়ী অধ্যাপক রয়েছেন। অর্থাৎ, ৯৯টি পদ খালি। উত্তরবঙ্গের প্রথম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে কীভাবে এখানকার পঠনপাঠন উন্নত হবে ও আধুনিক পর্যায়ে পৌঁছবে, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-প্রশাসক সকলেই উদ্বিগ্ন। 

    বিশ্ববিদ্যলয়ে উইমেন স্টাডিজ বিভাগে স্থায়ী কোনো অধ্যাপক নেই। চুক্তিভিত্তিক ও গেস্ট লেকচারার দিয়ে পঠনপাঠন চালানো হচ্ছে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগে মাত্র একজন স্থায়ী অধ্যাপক রয়েছেন। যেখানে পদের সংখ্যা ছ’টি। এমবিএ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগে মাত্র দু’জন স্থায়ী অধ্যাপক আছে। প্রায় একই হাল আইন, ফুড টেকনোলজি সহ অন্য বিভাগে। 
  • Link to this news (বর্তমান)