মজুরী পাচ্ছেন না অস্থায়ী কর্মীরা, লাটে পুর পরিষেবা
বর্তমান | ২০ আগস্ট ২০২৬
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: চলতি মাসে পুরো মজুরি মেলেনি। মাসের প্রথম দিকে মজুরি দেওয়ার কথা থাকলেও অর্ধেক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর মিলেছে বাকি অর্ধেক মজুরি। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বালুরঘাট পুরসভার অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা। এনিয়ে বুধবার বালুরঘাট পুরসভার সামনে অস্থায়ী কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। পুরসভার কাজ অচল হয়ে যায়। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর পর্যন্ত চালাননি কর্মীরা। ফলে বেশ কিছুক্ষণ পুরসভায় নিজের ঘরে অন্ধকারে বসে কাজ করেন চেয়ারম্যান। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভের জেরে পুরসভার একমাত্র ইলেকট্রিক চুল্লি সম্বলিত খিদিরপুর শ্মশানে তালা মেরে দেন কর্মীরা। মঙ্গলবার থেকে এই সমস্যা শুরু হয়েছিল। বুধবার তা বিক্ষোভে পরিণত হয়। ফলে বালুরঘাট পুরসভার নানা ধরনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন শংসাপত্র নিতে এসে অনেকে ঘুরে যান। এদিন শহরের আবর্জনা সাফাই হয়নি। বিষয়টি সামাল দিতে আসরে নামেন চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা। কাউন্সিলার রুমে অস্থায়ী কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন তিনি। শুক্রবারের মধ্যে পুরো মজুরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে বিক্ষোভ তুলে নেবেন বলে জানান অস্থায়ী কর্মীরা।
পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা বলেন, চলতি মাসে ফিনান্স অফিসার ও এক্সিকিউটিভ অফিসারের বদলি হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক বিষয়ে কিছু সমস্যা হয়েছিল। মজুরি দেওয়ার কাজে কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা তৈরি হওয়ায় এই মাসে মজুরি দিতে সমস্যা হয়েছে। আজ আমরা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। শুক্রবারের মধ্যে তাঁদের পুরো মজুরি দিয়ে দেওয়া হবে। আপাতত তাঁরা এই বিক্ষোভ তুলে নিয়েছেন।
খিদিরপুর শ্মশানের অস্থায়ী কর্মী খোকন মন্ডল বলেন, এই মজুরির উপরে আমাদের সংসার চলে। আমাদের অর্ধেক মজুরি দিলে কীভাবে কাজ করব? তাই শ্মশানে তালা মেরেছি।
অন্যদিকে, অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের নেতা বিজয় বর্মন বলেন, পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। তিনি শুক্রবারের মধ্যে মজুরি মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। মজুরি শুক্রবারের মধ্যে না পেলে ফের আমরা আন্দোলনে নামবো। পুরসভার সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভার নিজস্ব ফান্ড থেকে অস্থায়ী কর্মীদের মজুরি দেওয়া হয়। নিজস্ব ফান্ডের অবস্থা তেমন ভালো নয়। এর আগেও নিজস্ব ফান্ড থেকে মজুরি দিতে গিয়ে পুরসভা সমস্যায় পড়েছিল। প্রায় ৮০০ কর্মীদের মজুরি দিতে পুরসভাকে সমস্যায় পড়তে হয়। চলতি মাসে পুরসভা পুরো মজুরি দিতে পারেনি। এরমধ্যেই কর্মী ছাঁটাই করার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল। তার জেরে এদিনের বিক্ষোভ।