নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দৃশ্য এক: মঙ্গলবার রাতে ঘটা করে মনসা পুজো হচ্ছিল। আসানসোল দক্ষিণ থানার ফতেপুরে পুজো মণ্ডপে বহু মানুষের ভিড়। হঠাৎই বিকট শব্দে মণ্ডপের কাছেই একটি বড় অংশের মাটি কুয়োর মতো গর্ত হয়ে ধসে গেল। অতিবৃষ্টিতে ধস নেমেছে বুঝে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগে এই এলাকায় কোলিয়ারি ছিল। কয়লা তোলার জন্য চানক অর্থাৎ খনিমুখও ছিল। ধসের আতঙ্ক সঙ্গে নিয়েই রাতে চলল পূজা-অর্চনা।
দৃশ্য দুই। রানিগঞ্জ থানার বল্লভপুরের রঘুনাথচক এলাকায় মঙ্গলবার বড় ধস নামে। প্রায় ২০বর্গফুট জমি বসে গিয়েছে। এলাকায় বিদ্যালয়, আইসিডিএস কেন্দ্র সহ ঘন জনবসতি রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এখানেও আগে কয়লাখনি ছিল। ২০২৩ সালেও ধস নেমেছিল।
এভাবেই একের পর এক এলাকায় ধস নামছে। আসানসোল থেকে রানিগঞ্জ অণ্ডাল, পাণ্ডবেশ্বরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সোমবার পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুরে স্কুলের সামনেও ধস নামে। অতি ভারী বৃষ্টি হলে মাটি ধসে এই খনি অঞ্চলে বিপত্তি দেখা দেয়। খনি রাষ্ট্রায়ত্তকরণের আগে অপরিকল্পিতভাবে কয়লা তোলা হয়েছে। তার জেরে মাটির নীচের অনেক অংশ ফাঁকা রয়েছে। ইসিএলও বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত বালি ভরাট করেনি বলে অভিযোগ। তাই বৃষ্টি শুরু হলেই ইষ্টনাম জপ করেন খনি অঞ্চলের বাসিন্দারা।
সোম ও মঙ্গলবার অতি বর্ষণের পর বুধবার আসানসোলে আকাশ মেঘলা থাকলেও ভারি বৃষ্টিপাত হয়নি। প্রায় সর্বত্রই জল নেমে গিয়েছে। যদিও এখনও আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ব্যবস্থাপনায় কিছু শিবির চলছে। এদিন একাধিক শিবির পরিদর্শন করেন বিধায়ক। টানা বৃষ্টিতে আসানসোলের ফতেপুরে ধস।-নিজস্ব চিত্র