• হেস্টিংসে বেপরোয়া নীলবাতির গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম ট্রাফিক পুলিশ
    বর্তমান | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সারাদিন পথ সুরক্ষা ও দুর্ঘটনা রোধে নিজের কর্তব্য পালন করেন। ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিজেই বেপরোয়া গাড়ির কবলে পড়লেন কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এক পুলিশকর্মী। নীলবাতি লাগানো গাড়ির ধাক্কায় বাইক থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হলেন ভবানীপুর ট্রাফিক গার্ডের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেক্টর (এএসআই) রফিকুল ইসলাম (৪৭)। সল্টলেকের কলকাতা পুলিশ আবাসনের বাসিন্দা তিনি।

    মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ হেস্টিংস থানা এলাকার ডি এল খান রোড ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। জিরাট ব্রিজ ক্রসিংয়ের দায়িত্ব সামলান ওই পুলিশ কর্মী। ওইদিন রাতে ডিউটি শেষে বাইকে চেপে সল্টলেকের বাড়িতে ফিরছিলেন রফিকুল। আচমকা পিছন থেকে আসা একটি সাদা রঙের গাড়ি ধাক্কা মারে তাঁকে। গাড়িটির গতি এতটাই বেশি ছিল যে, অভিঘাতে বাইক থেকে প্রায় ২৫ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন বাইকচালক। অভিযোগকারী এএসআই বলেন, ওই সাদা রঙের গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল। সেটির মাথায় নীলবাতি লাগানো ছিল। দুর্ঘটনার সময় সেটি জ্বলছিল। দুর্ঘটনার জেরে তিনি বাইক থেকে ছিটকে পড়ে গেলেও ওই গাড়িটি দাঁড়ায়নি। সেটির সামনের বনেটের একাংশ তুবড়ে যায়। তা সত্ত্বেও গাড়িচালক হসপিটাল রোড ধরে দ্রুতগতিতে চম্পট দেয়। তার জেরেই গাড়ির নম্বরপ্লেট দেখতে পাননি আহত বাইকচালক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ভবানীপুর ট্রাফিক গার্ড ও হেস্টিংস থানার পুলিশ। আহত এএসআইকে উদ্ধার করে এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভরতি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, রফিকুলের ডান হাত ভেঙে গিয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর প্লাস্টার করে ওই ট্রাফিক পুলিশকর্মীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর হেস্টিংস থানায় ওই নীলবাতির গাড়ির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন এএসআই। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। অন্যদিকে, শহরের আরেক প্রান্তে সরকারি কাজে গিয়ে নিগৃহীত হলেন পুলিশ আধিকারিক সহ এক মহিলা পুলিশকর্মী। এন্টালি থানা এলাকার কনভেন্ট রোডে একটি বাড়ি ভাঙার জন্য হাইকোর্টের অর্ডার নিয়ে হাজির হন কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। অভিযোগ, ওই বাড়ি ভাঙতে যাওয়ার সময় পুলিশ কর্মীদের বাধা দেন স্থানীয় এক মহিলা। নাম ফারহা নাজ। তিনি ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার এক অফিসার ও এক মহিলা পুলিশকর্মীকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে, অন্য পুলিশ কর্মীদেরও হুমকি দেন ফারহা। ঘটনাস্থল থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে এন্টালি থানার পুলিশ।
  • Link to this news (বর্তমান)