• বাথরুম থেকেই যশোরের বাড়িতে মেসেজ: ‘বেঁচে ফিরতে পারব কি’
    বর্তমান | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • ফারহানা আখতার মিম (প্রত্যক্ষদর্শী) যতদূর খেয়াল পড়ছে তখন রাত পৌনে দু’টো। আমি আমার ১৩ মাসের বাচ্চাটাকে নিয়ে শুয়েছিলাম। আচমকা চিৎকার শুনতে পাই। ভাবলাম, কোনো ঝামেলা হচ্ছে হয়ত। আমার স্বামী (আরাফাত হোসেন) দরজা খুলে দেখতে গেলেন। তখন বুঝলাম চারদিক ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে। আমরা ছিলাম চারতলার একটা রুমে। নীচে তাকিয়ে দেখি শুধুই ধোঁয়া। চারিদিকে চিত্কার, আগুন, আগুন, আগুন লেগেছে। ধোঁয়া হু হু করে বাড়ছে। ঘর ভরে গেল ধোঁয়ায়। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। বাচ্চাটাকে নিয়ে আতঙ্কে পড়ে গেলাম।

    একজন আমাদের বলল, ছাদে উঠে যান। ছাদে, ছাদে। ছেলেকে নিয়ে ওর বাবা ছাদের দিকে গেল। তখন এত ধোঁয়া যে আমি স্বামীকে দেখতেই পাচ্ছি না। ছেলের নাম ধরে চিত্কার করলাম। মুখ বের করে দেখলাম সিঁড়িতে একটা ফ্যামিলির তিনজন দাঁড়িয়ে। তাঁদের সঙ্গে একটা বাথরুমে ঢুকে গেলাম আমি। বাংলাদেশে বাড়িতে মেসেজ করলাম। বললাম, জানি না বেঁচে ফিরতে পারব কি না।’ তারপর প্রায় ১৫ মিনিট বাথরুমে আটকে আমরা। এক-এক মিনিট যেন এক-একটি ঘণ্টা। আমরা বাথরুমের জানলা দিয়ে হাত বের করে ইশারা করতে শুরু করি। কিছুক্ষণ বাদে দমকল এসে আমাদের ওখান থেকে বের করে। নীচে নামিয়ে আনেন। অত ধোঁয়ায় তখন আমার কষ্ট শুরু হয়েছে। অজ্ঞান হয়ে পড়ি। তখনও স্বামী আর ছেলের খবর জানতে পারিনি। জ্ঞান ফেরার পর দেখি, ফোনে নেট কানেকশন নেই। বাড়িতে আর কিছু জানাতে পারিনি। একজনের থেকে ওয়াইফাই নিয়ে বাড়িতে ভিডিও কল করি। ওরা একটু শান্ত হয়। তারপর স্বামী আর ছেলেকে দেখতে পাই। ওদের দেখে আনন্দে কেঁদে ফেলি। মনে হল ধরে প্রাণ ফিরে পেয়েছি।

    আমরা অন্য একটি হোটেলে আপাতত থাকছি। ছেলেটাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য যশোর থেকে এসেছি । প্রায় একমাস হল কলকাতায় আছি। দমকলের জন্যই আজ প্রাণে বেঁচে আছি।
  • Link to this news (বর্তমান)