নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাঁধে অসহ্য ব্যথা আর পায়ে ক্ষত নিয়ে পুড়ে যাওয়া হোটেলের বাইরে খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন পৃথ্বী আগ্রাহি নামে তরুণ। তাঁরা তিন বন্ধু মিলে কলকাতায় এসেছেন। এসে অগ্নিকাণ্ডের মুখে পড়লেন। দুর্ঘটনার রাতের ভয়াবহ আতঙ্ক বর্ণনা করতে গিয়ে সকালেও শরীর কেঁপে উঠছে তাঁদের। বাংলাদেশের খুলনার মহম্মদ উজ্জ্বল অগ্নিদগ্ধ বিল্ডিংয়ের তিনতলার হোটেলটিতে ছিলেন। ভয়ে বাথরুমের ভিতর গিয়ে জানলা খুলে দেন। মির্জা গালিব স্ট্রিটে বুধবার এরকম সব ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে দিন কাটল অসংখ্য মানুষের।
উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা পৃথ্বী বললেন, ‘আমরা ওড়িশা ঘুরে তিন বন্ধু মিলে ওই বিল্ডিংয়ের একটি হোটেলে ছিলাম। মঙ্গলবার সকালেই কলকাতায় আসি। রাত পৌনে দু’টো নাগাদ হঠাত্ চিত্কারের আওয়াজ পাই। আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। দুই বন্ধু জেগেছিল। ওরা আমাকে ডেকে তোলে। আমি দরজার বাইরে বেরিয়ে দেখি, চারদিক ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে। মহিলাদের চিত্কারের শব্দ শুনতে পাচ্ছি। আমি কিছু না ভেবে পিছনের দরজা দিয়ে নীচে ঝাঁপ মারি। একটা টিনের শেড ছিল। তাতে লেগে পা কেটে যায়।’ খুলনার বাসিন্দা মহম্মদ উজ্জ্বল তিনতলায় ছিলেন। বললেন, ‘আমার করিডরের উলটো দিকের হোটেলে আগুন লেগেছিল। ঘরের দরজা বন্ধ করে বাথরুমে ঢুকে যাই। সেখানে একজস্ট ফ্যান চালিয়ে অপেক্ষা করতে থাকি। তারপর দমকল এসে উদ্ধার করে।’ বাংলাদেশের গাজিপুরের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান ও নাজমুল সরকার ওই বিল্ডিংয়ের পাঁচতলায় ছিলেন। তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে প্রাণভয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে যান। বললেন, ‘নীচে নামতে গিয়ে আটকে যাই। কিছু একটা ফাটার শব্দ পাচ্ছিলাম। ফের সরু সিঁড়িটা দিয়ে উপরে ছাদে উঠে যাই। প্রায় দু’ঘণ্টা বাদে দমকল আমাদের ছাদ থেকে নামায়।’ উত্তর দিনাজপুরের বাসিন্দা নৌশাদ আলি কলকাতা হাইকোর্টের কাজে এসেছিলেন কলকাতায়। তিনি ওই বিল্ডিংয়ের পাঁচতলায় ছিলেন। বললেন, ‘আগুন লাগার কথা শুনে টাকা আর মামলার কাগজপত্র শুধু নিয়ে বেরিয়ে আসি। ভয়ানক অভিজ্ঞতা হল।’