আইএসআইয়ের ‘ডিপ অ্যাসেট’ রানা কাজ করেছে সালকিয়ার কারখানায়, তদন্তে তথ্য
বর্তমান | ২০ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাবড়া থেকে ধৃত আইএসআইয়ের ‘ডিপ অ্যাসেট’ রানা রউফ খালিদ হাওড়ার জালান রোডে সোফা কারখানায় কাজ নিয়েছিল। আড়ালে চলছিল চরবৃত্তি ও নতুন সদস্য নিয়োগ। তাকে হাওড়ার কারখানায় কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া যুবক জাফর সামস ওরফে সানিকে মঙ্গলবার রাতে রিষড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। রানাই তাকে চরবৃত্তির কাজে নিয়োগ করেছিল বলে খবর। সামরিক ঘাঁটির তথ্য ও সেনার গতিবিধি সানি ওই পাক এজেন্টকে দিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।
সপ্তাহখানেক আগেই গ্রেপ্তার হয় রানা। তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, জাফর নামে এক যুবক প্রায়ই নেপালে যেত। রিষড়ার বাসিন্দা ওই যুবক তপসিয়ার বাসিন্দা ইজাজের হাত ধরেই সোফার কাজ করতে পানিট্যাঙ্কি দিয়ে নেপালে যায়। সেখানে একাধিক জায়গায় কাজ করেছে। তখনই রানার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল জাফরের। পাকিস্তানে এই ডিপ অ্যাসেট তাকে চর হিসেবে নিয়োগ করে। তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিভিন্ন আর্মি ক্যাম্প থেকে কী ধরনের কত গাড়ি বেরোচ্ছে, তাদের নম্বর, গাড়ির ছবি ও তথ্য জোগাড় করে তার কাছে পাঠাতে। একইসঙ্গে তাকে বলা হয়েছিল ফোর্ট উইলিয়াম সহ বিভিন্ন সেনা ক্যাম্পে ঠিকাদার মারফত সোফার কাজ নিয়ে ঢুকে সেখানকার তথ্য জোগাড় করতে। সানির গতিবিধি নজরে আসে গোয়েন্দাদের। তার খোঁজ শুরু করে বেঙ্গল এসটিএফের টিম। বুধবার রাতে সানি রিষড়ায় আসছে, খবর পান তদন্তকারীরা। এরপরই সেখানে হানা দিয়ে তাকে ধরা হয়।
জাফর ওরফে সানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, পরিচয়ের পর ওই রানা জানায়, তাকে পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার কাছাকাছি কোনো কাজের ব্যবস্থা করে দিতে। রানা ভারতে এলে তপসিয়ায় এসে ওঠে। সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে জাফর। এরপর হাওড়ার সালকিয়ার জালান রোডে একটি সোফা তৈরির কারখানায় নিয়ে যায় অভিযুক্ত। বন্ধু বলে পরিচয় দিয়ে রানার কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। সেখানে বছর খানেক কাজ করে রানা। ওই পাক চরের নির্দেশমতো পাকিস্তান থেকে আসা অন্য এজেন্টদের হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছে সানি। রানা ডেরা পাল্টে অন্যত্র কাজ নেয়। হাওড়ার কারখানার কাজ করার সময় ওই পাক চর এখানকার বেশ কয়েকজন যুবককে চর হিসেবে নিয়োগ করেছে বলে জেনেছে তদম্তকারীরা। তাদের খোঁজও চলছে।