অভিশপ্ত বাড়িতেই চলছিল ১৫ হোটেল! মিলছে না বিল্ডিং প্ল্যান
বর্তমান | ২০ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৫ নম্বর মির্জা গালিব স্ট্রিট। ঠিকানা একটাই। প্রবেশপথও। কিন্তু সেখানে শুধু অভিশপ্ত ‘শিখা ইন’ নয়, রয়েছে মোট ১৫টি গেস্টহাউস বা হোটেল! কোনোটির নাম ‘মরিয়ম গেস্ট হাউস’, তো কোনোটির পরিচয় ‘হোটেল তোইবা’। শহরের বুকে কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই রমরমিয়ে চলছিল পাঁচতলা জতুগৃহটি। মঙ্গলবার গভীর রাতে সেই বাড়িতেই আগুনের গ্রাসে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। তার জেরে শহরে থাকা এধরনের যাবতীয় হোটেল, গেস্ট হাউস এখন প্রশাসনের স্ক্যানারে। বিভিন্ন ‘অ্যাসেম্বলি’ বিল্ডিং, অর্থাৎ যেখানে হোটেল, গেস্ট হাউস, রেস্তরাঁ-পানশালা, অফিসের মতো বাণিজ্যিক কার্যকলাপের পাশাপাশি আবাসনও রয়েছে, সেগুলি অডিটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। নিয়মবর্হিভূতভাবে চলা যে-কোনো ব্যবসা বন্ধের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। প্রশাসক তথা পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডেও জানিয়েছেন, বিভিন্ন বিল্ডিংগুলি ঘুরে ফায়ার সেফটি-সিকিওরিটির ক্ষেত্রে কী কী গলদ রয়েছে, কোথায় কোথায় বেআইনি নির্মাণ রয়েছে, সবটা খতিয়ে দেখা হবে। ১৬টি বরোভিত্তিক পৃথক যৌথ টিম নামানো হয়েছে। সেই টিমে পুরসভার বিল্ডিং, লাইসেন্স বিভাগের সঙ্গে পুলিশ, দমকল, কেএমডিএ, সিইএসসির প্রতিনিধিরা রয়েছেন। আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে তাঁদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা করতে বলা হয়েছে। বেনিয়ম ধরা পড়লেই সব বন্ধ করে দেওয়া হবে।
অভিশপ্ত বাড়িটি এদিন পরিদর্শনে যায় পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের টিম। সূত্রের খবর, প্রায় ৬০ বছর পুরানো এই বিল্ডিংয়ের কোনো অনুমোদিত প্ল্যান আপাতত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জতুগৃহটি সম্পর্কে জানতে ভরসা তাই ‘ইনস্পেকশন বুক’ (আইবি), যেখানে সংশ্লিষ্ট বিল্ডিং সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য থাকে। সেটির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় সম্পত্তি করের পরিমাণ। অ্যাসেসমেন্টের ফাইলে ১৯৬৭ সালের একটি ‘আইবি রেকর্ড’ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। সেখানে ওই ঠিকানাটি ‘জি প্লাস ফোর’ অর্থাৎ পাঁচতলা বিল্ডিং হিসাবে নথিভুক্ত। মিলেছে ২০০৬ সালের আরও একটি ‘আইবি রেকর্ড’ও। মনে করা হচ্ছে, সেই সময় এই সম্পত্তিটির হস্তান্তর হয়েছিল। পুর-তথ্য বলছে, গোটা বিল্ডিংটির একটা অংশ আবাসিক। সেখানে নন্দাদেবী নামক এক মহিলা থাকেন। আধিকারিকরা আরও জানাচ্ছেন, দেড় বছর আগে বিল্ডিংটির একটা অংশে ‘ইন্টারনাল ম্যাসিভ চেঞ্জেস’ করা হয়েছিল। কিন্তু তা বেআইনি হওয়ায় পুরসভা ভেঙে দেয়। বাড়িটির দমকলের ছাড়পত্র নেই। ভিতরে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না। বিল্ডিংটির একাধিক প্রেমিসেস নম্বর রয়েছে। সেখানে চলা সব গেস্টহাউসের ট্রেড লাইসেন্সও নেই বলে অভিযোগ। একটি স্টিলের সিঁড়িই মূল ওঠানামার পথ। জানা গিয়েছে, বাড়িটি যে সংস্থাকে লিজ দেওয়া হয়েছিল, তারা আবার সাব-লিজ দেয় অন্যদের। অন্য একটি সংস্থাই ‘শিখা ইন’ হোটেলটি চালাচ্ছিল।