• তিতুমীরের নাম মুছে শ্যামাপ্রসাদ ভবন, পরিচয় বদল ঘিরে বিতর্ক
    বর্তমান | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: খাতায় কলমে সরকারি সভাকক্ষ। অথচ একটি অনুষ্ঠানের মধ্যেই বদলে গেল সবকিছু! উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের দীর্ঘদিনের ‘তিতুমীর সভাকক্ষ’-র নাম মুছে দিয়ে লেখা হল  ‘শ্যামাপ্রসাদ ভবন’। অভিযোগ, সভাকক্ষের দেওয়াল থেকে তিতুমীরের ছবি নামিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি টাঙানো হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। বুধবার সংগঠনের অখণ্ড ভারত সংকল্প সপ্তাহের অনুষ্ঠান ছিল জেলা পরিষদের সভাকক্ষে। সেই অনুষ্ঠানে ‘বদলে গেল’ সরকারি সভাকক্ষের পরিচয়। বদলের পরেই সামনে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— জেলা পরিষদের সরকারি ভবনে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুমতি কে দিল? উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ তৈরি হয় ১৯৮৬ সালের ২৬ জুন। পরে গঠিত হয় জেলা পরিষদ। তখন থেকেই সভাকক্ষটির নাম তিতুমীর সভাকক্ষ। নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষটিও এই জেলার ইতিহাসের অংশ। বাদুড়িয়ার বাসিন্দা সৈয়দ মীর নিসার আলি— ইতিহাসে তিতুমীর। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা, জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করা এবং নারকেলবেড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আজও বাংলার ইতিহাসের পরিচিত অধ্যায়। আর সেই তিতুমীরের ছবি সরিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি টাঙানো ও সভাকক্ষের নতুন নাম ঘোষণা— দুটিই করলেন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা। সংগঠনের নেতা সঞ্জীব মাহাতোর বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও হিন্দুদের সামাজিক জয় হয়নি। অখণ্ড ভারত সংকল্প নিয়েই তিতুমীর সভাকক্ষের নাম বদলে শ্যামাপ্রসাদ ভবন করা হয়েছে। এনিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরিসরিয়া বলে, এটা সরকারি সম্পত্তি। কিন্তু কি হয়েছে তা আমার জানা নেই। আমাকে কিছু বলাও হয়নি। এদিকে জেলা পরিষদের সভাপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, আমি কলকাতায় জরুরি বৈঠকে আছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বলব।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)