• কলকাতার ‘ঢাকা’ নিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকরাও ক্ষুব্ধ, পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন
    এই সময় | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: মধ্য কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, মারকুইস স্ট্রিট এবং রফি আহমেদ কিদোয়াই রোডে বড়, মাঝারি, ছোট মিলিয়ে অন্তত হাজার দেড়েক হোটেল রয়েছে। কলকাতায় চিকিৎসা, ব্যবসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনে এসে বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিক এই সব হোটেলেই ঘর ভাড়া নেন। স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এই এলাকায় ছ'শো টাকা থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত হোটেল ভাড়ার রেট রয়েছে।

    মঙ্গলবার রাতে, ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগার পরে এই এলাকার হোটেলের পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের অনেক অতিথি। তাঁদের কাছে মধ্য কলকাতার এই এলাকা এতটাই জনপ্রিয় যে, অনেকেই এই এলাকাকে 'কলকাতার ঢাকা' বলে থাকেন। এই এলাকার পুরোনো বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সাতের দশক থেকেই এই এলাকায় বাংলাদেশের নাগরিকদের আসা যাওয়া।

    বাংলাদেশের ঢাকার বাসিন্দা তওসির আহমেদ পরিবার নিয়েই ব্যবসার কাজে কলকাতায় এসে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে রয়েছেন দিন পনেরো ধরে। তাঁর কথায়, 'হোটেলে জলের অভাব থাকে। ঘরের এসি মেশিন অনেক সময়ো ঠিক মতো চলে না। ফ্যান ঘোরে না। অনেক হোটেলের কর্মীরা ঠিক ব্যবহার করেন না। এই সব সমস্যা নিয়েই আমাদের এখানকার হোটেলে ঘর ভাড়া নিতে হয়।' বরিশাল শহরের বাসিন্দা আব্দুর রোজ্জাক বলেন, 'আমার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বছর তিনেক অন্তর কলকাতায় আসতে হয়। কলকাতায় এসে আমরা মারকুইস বা ফ্রি স্কুল স্টিস্ট্রটের হোটেলে ঘর ভাড়া করি। জল, আলো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এখানকার সব হোটেলেই কমবেশি সমস্যা রয়েছে।'

    মারকুইস স্ট্রিটের একটি হোটেলের ম্যানেজার মহম্মদ আলাউদ্দিন ওরফে ভোলা যদিও বলছেন, 'প্রতিটি হোটেলে সাধ্যমতো পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ ছোটখাটো গরমিলকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।' ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের এক হোটেল ব্যবসায়ী জাফর খানের কথায়, 'ঘর ভাড়া নেওয়ার সময়েই জানিয়ে দেওয়া হয়, কোন ভাড়ায় কী কী পরিষেবা মিলবে। এই অভিযোগ ঠিক নয়।'

    এইসব হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে অনেক বাংলাদেশের নাগরিকদের। রাজ্যের দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, এই এলাকার হোটেলগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত হবে। বাংলাদেশের অতিমারি, রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার জন্য মধ্য কলকাতার এই এলাকায় বাংলাদেশের নাগরিকদের আসা কার্যত তলানিতে এসে ঠেকে ছিল। বছরখানেক হলো সেই মন্দা কাটিয়ে, সামান্য ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এখানকার হোটেল ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার রাতের আগুন ফের তাঁদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলি খান বলেন, 'পরিষেবা নিয়ে কিছু সমস্যা সর্বত্র থাকে। তবে এই পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের হোটেল ব্যবসা কী করে চালাব, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেব।'

  • Link to this news (এই সময়)