• হঠাত্‍ কাজল শেখের ইস্তফা, বীরভূমের জেলা পরিষদে সভাপতির পদ ছাড়লেন
    আজ তক | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • বীরভূম জেলা পরিষদের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন 'ঋতব্রতপন্থী' তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কাজল শেখ। মাথায় রাখবে হবে, ইতিমধ্যেই জেলার রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে রয়েছেন কাজল। তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন জেলা পরিষদেরই ১৯ জন তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য। এই প্রস্তাবে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার। তবে তার ঠিক আগের দিন, বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফয়েজুল হক ওরফে কাজল শেখ। 

    যতদূর খবর, ইতিমধ্যেই তিনি পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন বর্ধমানের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে। ইতিমধ্যেই তাঁর ইস্তফা গৃহীত হয়েছে। এমনকী আগামী ৫ দিনের মধ্যেই তাঁকে জেলা পরিষদের কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে, তেমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

    কেন পদত্যাগ করছেন কাজল? 
    আসলে কাজলের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন বীরভূমের জেলা পরিষদের ১৯ জন সদস্য। সেই মতো ভোটাভুটির কথা ছিল শুক্রবার। কিন্তু ঠিক তার আগেই পদত্যাগ করলেন কাজল। 

    বীরভূম জেলা পরিষদের মোট সদস্যের সংখ্যা হল ৫২ জন। সেখানে ৫১ জনই তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য। মাত্র ১ জন কংগ্রেস সদস্য রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ১৯ জন সদস্য কাজলের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন। আর সেই আবহেই আগেভাগে ইস্তফা দিলেন তিনি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট পরবর্তী সময় জেলায় দাপট কমেছে কাজলের। তিনি ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার পর জনপ্রিয়তাতেও এসেছে ভাটা। এমন পরিস্থিতিতে অনাস্থা এনেছেন তৃণমূলের ১৯ জন সদস্য। এই অবস্থায় ভোটাভুটি হলে তিনি হেরে যেতে পারেন বলে আভাস রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি না নিয়ে ইস্তফা দিলেন কাজল। এখন দেখার বীরভূমের জেলা পরিষদের পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে যায়। 

    মাথায় রাখতে হবে, চলতি বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিটে হাসান বিধানসভায় জিতেছেন কাজল। সেই ভোটে ভরাডুবি হয় টিএমসি-এর। তারপর কাজল যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে। কিন্তু তারপরও বাঁচল না তাঁর জেলা সভাপতির চেয়ার। তাঁকে পদত্যাগ করতে হল। 


    বর্তমানে কাজলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, 'ওদিকে তো সব ভাল তৃণমূল। তা হলে ভালদের মধ্যে এত গুঁতোগুঁতি কেন? আসলে সবটাই পুলিশকে দিয়ে ধমকানি-চমকানির রাজনীতি চলছে, যেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।

     
  • Link to this news (আজ তক)