• ‘স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান’, বন্দে মাতরমে ‘কাঁচি চালানো’ কংগ্রেসকে ‘মুসলিম’ তোপ শাহর
    প্রতিদিন | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • বন্দে মাতরমের দু’টি স্তবকই গাইবে কংগ্রেস। নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে হাতশিবির। এবার সেই নিয়ে তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর কথায়, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত আসলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান। দিনের পর দিন ধরে কংগ্রেস তোষণের রাজনীতি করে এসেছে। সেকারণেই বন্দে মাতরম ভাগ করেছিল কংগ্রেস। শাহ আরও জানিয়েছেন, কংগ্রেসের এই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন করেছে মোদি সরকার।

    ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের অধিবেশনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, গাওয়া হবে বন্দে মাতরমের প্রথম দু’টি স্তবক। সেই সিদ্ধান্তেই অনড় হাতশিবির। এই মানসিকতার তীব্র নিন্দা করে শাহ বলেন, “গোটা দেশকে মনে করিয়ে দিই, ১৯৩৭ সালে মুসলিম তোষণের জন্যই বন্দে মাতরম ভাগ করা হয়েছিল। ওই পদক্ষেপই ছিল দেশভাগের ভিত্তি, জন্ম দিয়েছিল দ্বিজাতি তত্ত্বের। সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত দেশভাগ হয় এবং জন্ম হয় পাকিস্তানের।” উল্লেখ্য, বুধবার ছিল কংগ্রেসের কার্যকরী সমিতির বৈঠক। সেখানে আবারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বন্দে মাতরমের প্রথম দু’টি স্তবকই গাওয়া হবে।

    এই সিদ্ধান্তকে তোপ দেগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেস যে তোষণের রাজনীতি করছে এই সিদ্ধান্তই তার প্রমাণ। ভোট ব্যাঙ্কের জন্য ওরা বঙ্কিমবাবুর অমর সৃষ্টির অপমান করছে। বন্দে মাতরম ধ্বনি দিয়ে যে অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামী লড়াই করেছেন, জেলে গিয়েছেন, তাঁদেরও অপমান করছে কংগ্রেস।” শাহর কথায়, বন্দে মাতরমকে দুইভাগে ভাগ করার ফল ভুগেছে দেশ। ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত ফেরত এনে আবার সেই তোষণ চালু করছে কংগ্রেস। কিন্তু মানুষ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন।

    কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানান, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার প্যাটেলের মতো ব্যক্তিত্ব যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে, কংগ্রেস সেই সিদ্ধান্তেই অটল থাকবে। বেণুগোপালের মতে, “বন্দে মাতরম কংগ্রেসের কাছে আবেগের বিষয়, কিন্তু বিজেপি এই নিয়ে রাজনীতি করে।” যদিও ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক ভুল বলে অভিহিত করেছেন শাহ। সেই ভুল সংশোধন করা হয়েছে বলেই তাঁর দাবি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)