‘বাবা চলে যাওয়ার পর তোমার জীবনটা…’, রাজীবের জন্মদিনে মা সোনিয়াকে খোলা চিঠি রাহুলের
প্রতিদিন | ২০ আগস্ট ২০২৬
বাবা রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে আবেগপ্রবণ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। সোশাল মিডিয়ায় খোলা চিঠি লিখলেন মা সোনিয়া গান্ধীকে (Sonia Gandhi)। জানালেন, ১৯৯১ সালে রাজীবের প্রয়াণের পরে সোনিয়ার লড়াই তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। তাতেই তাঁর কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে মায়ের অনন্ত সাহস ও মর্যাদার বিষয়টি।
বৃহস্পতিবার ছিল রাজীব গান্ধীর ৮২তম জন্মদিন। আর সেদিনই মাকে চিঠি লিখলেন রাহুল। আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে চলেছে সোনিয়ার স্মৃতিকথা ‘বিলঙ্গিং: আ জার্নি অফ লাভ’। রাহুল জানিয়েছেন, তাঁর বিশ্বাস, মায়ের এই স্মৃতিকথা লক্ষ লক্ষ পাঠকের মন জয় করবে।
এক্স হ্যান্ডলে লেখা ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘বাবা যেদিন থেকে তোমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে, সেদিন থেকেই দেখেছি কীভাবে সব কিছুকেই অনন্ত সাহস ও মর্যাদায় তার মোকাবিলা করতে, যা যা তোমার দিকে নিক্ষেপ করেছে জীবন। কেবল আমি আর প্রিয়াঙ্কাই জানি তোমাকে কীসের কীসের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এবং বাবাকে ছাড়া তোমার জীবনটা কতটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল!’ সেই সঙ্গেই সোনিয়াকে বইয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে রাহুল লিখেছেন, ‘আজ ওর জন্মদিনে (রাজীব গান্ধী) আমি দেখতে পাচ্ছি বাবা হাসছে, আর ওর সুন্দরী সোনিয়ার দিকে গর্বভরে তাকাচ্ছে।’ গোটা চিঠিতেই ৫৬ বছরের রাহুলকে কার্যতই আবেগে ভেসে যেতে দেখা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৪ সালের ২০ আগস্ট রাজীব গান্ধীর জন্ম। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯১ সালে এলটিটিই-র আত্মঘাতী বোমায় যখন তিনি প্রাণ হারান তখন রাহুল মাত্র ২০। সেই সময় দুই পুত্রকন্যাকে নিয়ে শুরু হয় সোনিয়া গান্ধীর জীবনসংগ্রাম। সেই লড়াইয়ের কথাই রাজীবের জন্মদিনে স্মরণ করলেন পুত্র রাহুল।
উল্লেখ্য, সোনিয়ার স্মৃতিকথায় লন্ডনের কেমব্রিজে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর আলাপ, প্রেম, বিয়ে থেকে শুরু করে ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর হত্যা, ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ, ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলি রয়েছে। বইটিতে নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অজানা অধ্যায় উঠে আসবে বলে প্রকাশকের তরফে জানানো হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই বইটিকে ঘিরে এখন থেকেই জনমানসে আগ্রহ ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।