• মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডে এত মৃত্যু কীভাবে? ফরেনসিকে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
    প্রতিদিন | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • তিনতলার রিসেপশনে ছিল এসির তার বা পোর্ট। এসি যেখানে ছিল, সেই জায়গার কিছু অংশ ফুলে গিয়েছিল। সেখান থেকেই আগুন লাগে। ফাটতে থাকে অন্যান্য তার। এসি থেকে আগুনের সঙ্গে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভবনে। সেই বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা যান ৯ আবাসিক। ঘরগুলি ধোঁয়ায় ভরে যেতেই নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে পারেননি আবাসিকরা।নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রামথিকভাবে উঠে এল এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    ১৯ তারিখ পাঁচতলার ভবনের ৩ তলায় আগুন লাগে। এসিতে আগুন লাগার পর বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে আবাসনে। কালো ধোঁয়া ভর্তি হয়ে যায়। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল আবাসিকদের। এই তলেই ছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী ও শিশু সন্তান ও বাবা। সাংবাদিকের বাবা একটি ঘরে। অন্য ঘরে পরিবার নিয়েছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক। আগুন লাগার পর তাঁরা বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন। দু’জনের দেহ মিলেছে প্যাসেজ থেকে। ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ান ছিলেন রিসেপসনের পাশের ঘরেই। তাঁরও ধোঁয়ায় শ্বাস আটকে মৃত্যু হয়েছে। সন্দীপের বুকেও আঘাত পাওয়া গিয়েছে। বুধবার সব দেহগুলি শনাক্তকরণ না হওয়ায় ময়নাতদন্ত হয়নি। এ দিন বৃহস্পতিবার দেহগুলির ময়নাতদন্ত হবে। এ দিকে অগ্নিকাণ্ডে হোটেলের লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে ম্যানেজার ও এক স্টাফকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পলাতক মালিকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

    উল্লেখ্য, তারাপীঠের পর বুধবার ভোররাতে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুন লাগে। গভীর রাতে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল হোটেল শিখা ইন। ভিতরে আটকে পড়েন বহু আবাসিক। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। তাদের মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি। যারা চিকিৎসার জন্য কলকাতা এসেছিলেন। আহত কমপক্ষে ৬ জন। আবাসিক ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই হোটেলে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। সেই কারণেই এতটা ভয়ংকর পরিস্থিতি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)