ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলকে কেন্দ্র করে বড় ধাক্কা খেল হেমন্ত সোরেন সরকার। রাজ্য সরকারের পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। ১১তম থেকে ১৩তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) পরীক্ষার পাশাপাশি ফুড সেফটি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত আবেদনগুলির শুনানিতে এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজ্য সরকারকে ১৫ দিনের মধ্যে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে।
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন চলছিল। তাঁদের অভিযোগ ছিল, একাধিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, কারচুপি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। প্রায় ২৬ দিন ধরে চলা আন্দোলনের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।
সম্প্রতি হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকার মোট ২২টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি আরও ২৩টি পরীক্ষার ক্ষেত্রে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১৪ সাল থেকে JPSC, ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC) এবং একটি আউটসোর্সিং সংস্থা TDPL-এর মাধ্যমে হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে অবশ্য নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয় সফল চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই গোটা পরীক্ষা এবং তার ভিত্তিতে হওয়া নিয়োগ বাতিল করা হলে নির্দোষ প্রার্থীদেরও শাস্তি পেতে হবে। এই যুক্তিতেই একাধিক সফল প্রার্থী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতেই আদালত আপাতত সরকারের পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলির ফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীরা আদালতের এই নির্দেশে আপাতত স্বস্তিতে। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে রাজ্য সরকারের জবাব এবং পরীক্ষাগুলিতে সত্যিই কোনও বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। এই সমস্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে, ছাত্রদের আন্দোলন আপাতত ৬০ দিনের জন্য স্থগিত রয়েছে। তবে চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে ফের আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।
ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের JPSC পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে আপাতত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলির ফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীরা আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন।
১১তম, ১২তম ও ১৩তম JPSC পরীক্ষার পাশাপাশি Food Safety Officer নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত আবেদনগুলির শুনানিতেও আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে।
রাজ্য সরকারকে ১৫ দিনের মধ্যে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট।
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, কারচুপি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিনের পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের পর সরকার একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল এবং আরও কিছু পরীক্ষায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল। পাশাপাশি আরও ২৩টি পরীক্ষার ক্ষেত্রে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সফল চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের অভিযোগ ছিল, অনিয়ম হয়ে থাকলে নির্দিষ্টভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু গোটা পরীক্ষা ও তার ভিত্তিতে হওয়া নিয়োগ বাতিল হলে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নন এমন সফল প্রার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
আপাতত তাঁদের নিয়োগের ভিত্তি পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে স্বস্তি মিলেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের পরবর্তী শুনানি ও রাজ্য সরকারের জবাবের উপর নির্ভর করবে।
হ্যাঁ। রাজ্য সরকার আরও কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষা তদন্তের আওতায় এনেছে। ২০১৪ সাল থেকে JPSC, JSSC এবং TDPL-এর মাধ্যমে হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে চলা ছাত্রদের আন্দোলন আপাতত ৬০ দিনের জন্য স্থগিত রয়েছে। তবে চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়ে ভবিষ্যতে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
প্রথমে রাজ্য সরকারকে ১৫ দিনের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। এরপর আদালত সরকারের বক্তব্য, পরীক্ষাগুলিতে অনিয়মের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।